নির্বাচন ছাড়া কোনো কিছুতেই বিশ্বাস করি না: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক:নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: ১:০০ অপরাহন, গাস্ট ৬, ২০২৫

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো কিছুতেই আমরা বিশ্বাস করি না। তিনি বলেন, গোটা জাতি মনে করে, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমেই বর্তমান রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব।

বুধবার (৬ আগস্ট) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান উপদেষ্টার ৫ আগস্টের জুলাই ঘোষণাপত্র এবং নির্বাচনের ঘোষণা নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বিএনপি।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য একটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যাওয়া। যারা হতাশ হয়েছে, তারা সবসময় হতাশ থাকে। আমরা আশা করি, সব পক্ষই এই গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথকে পরিষ্কার করবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, যারা হতাশ হয়েছে, তারা সারাজীবন হতাশ থাকে। আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া হয়তো তারা এখনও দেয়নি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তারা বলেছে, আমরা আশা করবো তারা একটা পজিটিভ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এই জাতীয় এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথকে পরিষ্কার করবে।

তিনি বলেন, নিশ্চয়ই এখন পর্যন্ত যতগুলো কাজ করে এসেছেন প্রফেসর ড মুহাম্মদ ইউনূস। তাতে প্রমাণ করেছেন, ভবিষ্যতেও তিনি নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও অবাধ করার জন্য এমন কিছু করবেন না, যেটা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর দেশের মানুষ এক ভয়াবহ ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। আওয়ামী লীগ সরকার একদলীয় শাসন কায়েম করে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ করেছে, বিচার ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করেছে, অর্থনীতি লুট করেছে, শিক্ষাঙ্গনকে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছে।

Nagad

তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, সাজা এবং আটক করে নেতৃত্ব শূন্য করার চেষ্টা চালানো হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে আজীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, অনেক নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ফখরুল বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার স্বতঃস্ফূত আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এর মধ্য দিয়েই এক নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের পথ রচিত হয়।

এই অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ শুরু করেন। এর ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট তিনি জুলাই ঘোষণাপত্র ও নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা এই ঘোষণাপত্রকে স্বাগত জানাই। এই অঙ্গীকারগুলো পালনের মাধ্যমে এক নতুন, গণতান্ত্রিক, সাম্য ও মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনের সুযোগ তৈরি হবে। যারা এই আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন, আহত ও পঙ্গু হয়েছেন, তাদের প্রতি জানাই গভীর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা।