যুদ্ধের অবসান চাইলে ন্যাটোর আশা ছাড়তে হবে জেলেনস্কিকে: ট্রাম্প

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:১৫ পূর্বাহ্, গাস্ট ১৮, ২০২৫

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধ করতে চাইলে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার আশা ছাড়তে হবে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন, ২০১৪ সালে রাশিয়ার দখলে যাওয়া ক্রিমিয়া উপদ্বীপ ইউক্রেন ফেরত পাবে না। খবর বিবিসি।

সোমবার (১৮ আগস্ট) হোয়াইট হাউসে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের আগে নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ ট্রাম্প লিখেছেন, “প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি চাইলে যুদ্ধ প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই শেষ করতে পারেন। ন্যাটোতে ইউক্রেনের কোনো প্রবেশাধিকার নেই। আর ওবামা প্রশাসনের সময় রাশিয়ার হাতে ছেড়ে দেওয়া ক্রিমিয়া ফেরত আসবে না।”

সম্প্রতি আলাস্কায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে স্থায়ী শান্তিচুক্তির ওপর জোর দেন।

এর আগে রবিবার যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে জেলেনস্কি কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চয়তার দাবি তোলেন। মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানান, পুতিন ন্যাটোর মতোই একটি নিরাপত্তা চুক্তিতে সম্মতি দিয়েছেন, যা ইউক্রেনের জন্য “গেম চেঞ্জিং” হতে পারে।

তিনি সিএনএনকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫-এর মতো প্রতিরক্ষা নিশ্চয়তা দিতে পারে। তবে ইউক্রেনকে এই কাঠামো মেনে নিতে হবে।

আজকের বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টুব ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন। এত স্বল্প নোটিশে ইউরোপীয় নেতাদের একসঙ্গে ওয়াশিংটনে সমবেত হওয়াকে আধুনিক কূটনীতিতে বিরল ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন পর্যবেক্ষকরা।

Nagad

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ বলেন, আমরা চাই রাশিয়ার সামনে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান উপস্থাপন করতে, যাতে দুর্বলতার কোনো ছাপ না পড়ে।

তবে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, পুতিন পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চল দখলের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। অন্যদিকে জেলেনস্কি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইউক্রেনের সংবিধান অনুযায়ী কোনো ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়া সম্ভব নয় এবং এ বিষয়ে কেবল ত্রিপক্ষীয় বৈঠকেই আলোচনা হতে পারে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, গত ৮০ বছরের মধ্যে ইউরোপে সবচেয়ে ভয়াবহ এ সংঘাত দ্রুত শেষ হবে না। কিছু অগ্রগতি হয়েছে, কিন্তু বড় মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে। সূত্র-এনটিভি