‘হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ নয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল জাহাজে বিধিনিষেধ’
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি বলে জানিয়েছে ইরান। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে এ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে দেওয়া হবে না বলে সতর্ক করেছে দেশটি।
ইরানের এক জ্যেষ্ঠ সামরিক মুখপাত্র রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে এ তথ্য জানিয়েছেন। এতে বোঝা যাচ্ছে, তেহরান পুরো নৌপথ বন্ধ করার পরিবর্তে নির্দিষ্ট কিছু দেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের নীতি গ্রহণ করেছে।
বিশ্বের জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। তবে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর থেকে এ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, কোনো দেশ থেকে সরাসরি হামলা না হলে ভবিষ্যতে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে আর লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, শুক্রবার দেশটির অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে। শনিবার দেওয়া এক বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে সংঘটিত হামলার জন্য দুঃখ প্রকাশও করেন।
সংঘাতের শুরুতে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের কয়েকটি দেশ ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল। এর মধ্যে সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমান উল্লেখযোগ্য। এসব দেশে বা তাদের সীমান্তের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা থাকার কারণেই হামলা চালানো হয়েছিল বলে জানিয়েছে তেহরান।
এ ছাড়া ইরাক, জর্ডান, আজারবাইজান ও তুরস্কেও চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়েছে।

