হরমুজে আংশিক চলাচল শুরু, ইরানের ‘টোল বুথ’ পেরিয়ে গেল বিদেশি জাহাজ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে স্থবির হয়ে পড়া হরমুজ প্রণালিতে আবারও সীমিত আকারে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিশেষ রুট ব্যবহার করে জাপান, ফ্রান্স ও ওমান-সংশ্লিষ্ট একাধিক নৌযান প্রণালিটি অতিক্রম করেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার থেকে সংবেদনশীল এ নৌপথ দিয়ে কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে চলাচল করেছে।
সংঘাত তীব্র হওয়ার পর ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় ইরান। পরে নিজেদের জলসীমায় লারাক দ্বীপের কাছে একটি সীমিত রুট চালু করে তেহরান। যেসব জাহাজের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই, শুধু সেগুলোকে বিশেষ নজরদারিতে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক শিপিং জার্নাল ‘লয়েডস লিস্ট’ এ ব্যবস্থাকে ‘তেহরান টোল বুথ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এই রুট ব্যবহার করে ফ্রান্সের শিপিং কোম্পানি সিএমএ সিজিএম-এর একটি বড় কনটেইনার জাহাজ সফলভাবে প্রণালিটি পার হয়। নিরাপত্তার কারণে জাহাজটি অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেমে (এআইএস) কৌশলগত তথ্য প্রদর্শন করে এবং কিছু সময় তা বন্ধও রাখে।
জাপানের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মিতসুই ও.এস.কে. লাইনস সংশ্লিষ্ট এলএনজি ট্যাংকার ‘সোহর এলএনজি’ও সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। তবে এখনও প্রায় ৪৫টি জাপানি জাহাজ ওই অঞ্চলে আটকা রয়েছে।
এছাড়া ভারতের পতাকাবাহী একটি এলপিজি ট্যাংকার এবং পানামার পতাকাবাহী একটি গ্যাসবাহী জাহাজও একই রুট ব্যবহার করে চলাচল করেছে। ওমান শিপিং ম্যানেজমেন্ট পরিচালিত একাধিক ক্রুড ক্যারিয়ারও প্রণালি ত্যাগ করেছে।
এদিকে, ভবিষ্যতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে ‘শান্তিকালীন প্রোটোকল’ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এটি কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয় এবং তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। সীমিত পরিসরে আবার চলাচল শুরু হওয়ায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির আশা করা হচ্ছে।

