আওয়ামী লীগের আইনেই দলটির বিচার হবে: চিফ প্রসিকিউটর

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:৪৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ৫, ২০২৬

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিচার বিদ্যমান আইনেই সম্ভব। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারে থাকাকালে প্রণীত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩ এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯–এ এ ধরনের বিচারের বিধান রয়েছে।

রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, টানা শাসনামলে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ‘সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি’র আওতায় দলটির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগের বিচার করার সুযোগ আইনে রয়েছে।

তিনি বলেন, ৪ জুলাই এক স্মরণসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারের কথা বলেছেন। এ বিষয়ে তিনি গণমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যের ভিত্তিতেই অবগত রয়েছেন।

আমিনুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন প্রণয়ন করে। পরে ২০১০ সালে ওই আইনের অধীনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয় এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হয়। ২০১৩ সালে আইনটি সংশোধন করে সেখানে ‘অর্গানাইজেশন’ শব্দটি যুক্ত করা হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এছাড়া তিনি বলেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইন প্রণয়ন করে, যেখানে ব্যক্তি ছাড়াও কোনো ‘সত্তা’ বা সংগঠনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

Nagad

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা প্রয়োগ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করেছিল তৎকালীন সরকার। তার ভাষ্য, দল নিষিদ্ধকরণসহ সংশ্লিষ্ট আইনগত কাঠামো আওয়ামী লীগ সরকারই প্রণয়ন বা সংশোধন করেছিল।

তিনি বলেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩ অনুযায়ী মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রম চলছে। তাই দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারও বিদ্যমান আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে।