প্রধানমন্ত্রীর গুলশানের বাসভবনকে ‘বিশেষ শ্রেণির’ কেপিআই ঘোষণা

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩:১৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ৬, ২০২৬

জধানীর গুলশানে প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান বাসভবনকে ‘বিশেষ শ্রেণির’ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কী পয়েন্ট ইনস্টলেশন-কেপিআই) হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর ফলে বাসভবনটি ও আশপাশের এলাকা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় থাকবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৭ জুন কেপিআই-সংক্রান্ত কমিটির (কেপিআইডিসি) মাসিক সভায় গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসভবনকে ‘বিশেষ শ্রেণির’ কেপিআই হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়। পরে সরকারের অনুমোদনের ভিত্তিতে ১৫ জুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। গত ৩ জুলাই এ-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশিত হয়।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুলশানের এই বাসভবন থেকেই সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা সরকারি কাজে প্রস্তুত থাকলেও তিনি সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন না।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর গুলশানের প্রায় দেড় বিঘা জমির ওপর নির্মিত বাড়িটি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। পরে নামজারি সম্পন্ন হওয়ার পর বাড়িটি সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা হয়। গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর তারেক রহমান সেখানে বসবাস শুরু করেন এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরও সেখান থেকেই রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

বিশেষ শ্রেণির কেপিআই ঘোষণার ফলে বাসভবনের বহিঃনিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য পৃথক নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাষ্ট্রীয় নথি এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিরাপত্তা তদারকিতে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর সমন্বয়ে পৃথক নিরাপত্তা কমিটি গঠন করা হবে। পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট গার্ডস রেজিমেন্ট (পিজিআর) ও বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন।

Nagad

নির্দেশনা অনুযায়ী, কেপিআই স্থাপনার সীমানাপ্রাচীরের উচ্চতা কমপক্ষে ১২ ফুট হতে হবে। এর ওপর আরও তিন ফুট উচ্চতার ‘ওয়াই’ আকৃতির কাঁটাতারের বেড়া স্থাপন করতে হবে। এছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের ভবন থেকে নজরদারি, ছবি তোলা বা সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ছাড়া কেপিআই স্থাপনার ১৫০ থেকে ৩০০ মিটারের মধ্যে নতুন কোনো উঁচু ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। স্থাপনার ২৫ মিটারের মধ্যে নতুন ভবন নির্মাণ করা যাবে না। নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—এমন বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটি এবং গাছপালা অপসারণেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, প্রধানমন্ত্রী, তার পরিবারের সদস্য, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই গুলশানের এই বাসভবনকে ‘বিশেষ শ্রেণির’ কেপিআই ঘোষণা করা হয়েছে।