টানা তৃতীয় রাতের হামলার মাঝেও ইরানের সঙ্গে চুক্তির আশা ট্রাম্পের
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র করে টানা তৃতীয় রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন পরিস্থিতিতেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে এখনো একটি শান্তি চুক্তি সম্ভব।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি একটি চুক্তি সম্ভব। দুই দিন আগে আমাদের একটি চুক্তি হয়েছিল, কিন্তু পরে তারা জানায়, তারা আরও আলোচনা করতে চায়।’
এর আগে সোমবার রক্ষণশীল রেডিও উপস্থাপক হিউ হিউইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, ‘আজ রাতে এবং মঙ্গলবারও আমরা তাদের ওপর শক্ত আঘাত হানব।’
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, নতুন দফার হামলার লক্ষ্য ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
এদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে তাদের দুটি তেলবাহী জাহাজে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এ ঘটনায় একজন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্প কংগ্রেসকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছেন। এর ফলে পেন্টাগন কংগ্রেসের নতুন অনুমোদন ছাড়াই আরও ৬০ দিন সামরিক অভিযান পরিচালনার আইনি সুযোগ পেয়েছে।
এদিকে ইরানের নাতানজ এলাকার ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংসের হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প। পাশাপাশি তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘হরমুজ প্রণালীর অভিভাবক’ হিসেবে কাজ করবে এবং এ জলপথ ব্যবহারকারী কার্গো জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ টোল আরোপের পরিকল্পনা করছে।
ট্রাম্পের এই ঘোষণার কড়া সমালোচনা করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, আন্তর্জাতিক জলপথে এ ধরনের টোল আরোপ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।
চলমান সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম একদিনেই ৯ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান সমঝোতা এখন সংকটের মুখে। তবে কাতার, ওমান ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলায় দেশটির দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলে কয়েকজন নিহত হয়েছেন। যদিও এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সূত্র: এএফপি

