কাঁচাবাজারে অস্থিরতা, বেড়েছে সবজি, মাছ, ডিম ও পেঁয়াজের দাম

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:০৯ অপরাহন, জুলই ২৪, ২০২৬

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টিপাত ও বন্যার প্রভাবে রাজধানীর কাঁচাবাজারে বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। সবজি, মাছ, ডিম, পেঁয়াজ ও কাঁচামরিচসহ অধিকাংশ পণ্যের দাম গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর রামপুরা, খিলগাঁও, মালিবাগ ও তালতলা কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন পণ্যের দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে গিয়ে অনেক ক্রেতাকেই আগের তুলনায় কম পরিমাণে কেনাকাটা করতে হচ্ছে।

কাঁচামরিচের দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি

বর্তমানে বাজারে কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায়। মাত্র দুই দিন আগেও এর দাম ছিল প্রায় ২০০ টাকা, আর বন্যা ও টানা বৃষ্টির আগে বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে।

তালতলা বাজারে মরিচ কিনতে আসা জহুরুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিন আগেও ৩০ টাকায় ২৫০ গ্রাম মরিচ পাওয়া যেত, এখন একই টাকায় মিলছে মাত্র ১০০ গ্রামেরও কম। তার মতে, অল্প সময়ের মধ্যেই পণ্যের এমন মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জন্য বড় চাপ তৈরি করছে।

৮০ টাকার নিচে সবজি মিলছে না

Nagad

পেঁপে ও পটল ছাড়া প্রায় সব ধরনের সবজির দাম এখন ৮০ টাকার ওপরে। বাজারে পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা এবং পটল ৬০ টাকা কেজিতে।

অন্যদিকে বেগুনের দাম ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, ঝিঙা ও চিচিঙ্গা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, করলা ১২০ টাকা এবং শসা ও গাজর ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ২৫ টাকা

কয়েক দিন আগেও ভালো মানের দেশি পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও বর্তমানে একই পেঁয়াজ কিনতে গুনতে হচ্ছে ৬০ টাকা। মাঝারি মানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজিতে।

পাইকারি বাজারেও পাঁচ কেজির এক পাল্লা ভালো মানের পেঁয়াজের দাম বেড়ে ২৬০ থেকে ২৮০ টাকায় পৌঁছেছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ২০০ থেকে ২২০ টাকা।

বিক্রেতারা জানান, পাবনা, কুষ্টিয়া ও ফরিদপুরসহ উৎপাদনকারী এলাকায় টানা বৃষ্টির কারণে মোকামেই দাম বেড়েছে। ফলে খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।

ডিম ও মুরগির বাজারেও ঊর্ধ্বগতি

ফার্মের মুরগির ডিম বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে প্রতি ডজন ১৪০ টাকায়। কয়েক দিন আগে এর দাম ছিল ১৩০ টাকা, আর দেড় থেকে দুই সপ্তাহ আগে পাওয়া যেত ১২০ টাকায়।

ব্রয়লার মুরগির দামও কেজিতে প্রায় ২০ টাকা বেড়ে ১৯০ থেকে ২১০ টাকায় উঠেছে। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা কেজিতে।

মাছের বাজারেও বাড়তি দাম

মাছের বাজারেও বেড়েছে প্রায় সব ধরনের মাছের দাম। আগে দুই থেকে আড়াই কেজি ওজনের রুই মাছ ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও এখন একই মাছের দাম ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা।

তেলাপিয়া, পাঙাশ, পাবদা ও চাষের চিংড়িসহ প্রায় সব মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং চাষের চিংড়ি ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজিতে।

বাজারে ইলিশের সরবরাহও কম। এক কেজি ওজনের ইলিশ কিনতে গুনতে হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা।

বাজার করতে আসা অনেক ক্রেতাই বলছেন, টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় দাম বেড়েছে। তবে নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার। ক্রেতাদের অভিযোগ, দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম একের পর এক বাড়তে থাকায় সংসারের ব্যয় সামাল দেওয়া দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।