স্টার্টআপ বাংলাদেশের প্রথম সফল এক্সিট, মাইলফলক গড়ল পালসটেক

বাংলাদেশ সরকারের একমাত্র ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও ফান্ড ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড তাদের পোর্টফোলিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান পালসটেক লিমিটেড-এর মাধ্যমে প্রথম সফল এক্সিট সম্পন্ন করেছে। এটিকে দেশের প্রথম সফল রাষ্ট্রীয় ভেঞ্চার ক্যাপিটাল এক্সিট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই এক্সিট বাংলাদেশের উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনীতি ও স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) আইসিটি টাওয়ারে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এক্সিট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

অনুষ্ঠানে আইসিটি বিভাগের সচিব ও স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. মামুনুর রশীদ ভূঁঞা, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুল হাই, পালসটেকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরেফীন রাফী আহমেদ, সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আশিকুর রসুলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মো. মামুনুর রশীদ ভূঁঞা বলেন, উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে উদ্ভাবননির্ভর প্রবৃদ্ধিতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নিয়ে স্টার্টআপ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। প্রথম সফল এক্সিট দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার প্রতিফলন।

স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুল হাই বলেন, বাংলাদেশি স্টার্টআপগুলোর প্রবৃদ্ধি ও সাফল্যে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। এক্সিটের পরও প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

Nagad

তিনি আরও বলেন, ‘ফান্ড অব ফান্ডস’ উদ্যোগের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সহায়তা এবং দেশের স্টার্টআপ খাতে আরও বেশি মূলধন প্রবাহ নিশ্চিত করতে কাজ করছে স্টার্টআপ বাংলাদেশ।

পালসটেক লিমিটেডের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরেফীন রাফী আহমেদ বলেন, স্টার্টআপ বাংলাদেশ শুরু থেকেই তাদের ওপর আস্থা রেখেছে এবং প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এই সফল এক্সিট প্রমাণ করে, বাংলাদেশে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মতো উদ্যোক্তা ও সম্ভাবনা রয়েছে।

২০২৪ সালে স্টার্টআপ বাংলাদেশের বিনিয়োগ পাওয়ার পর পালসটেক বাংলাদেশের দ্রুত বর্ধনশীল হেলথকেয়ার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অন্যতম হিসেবে উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটি ফার্মাসিউটিক্যাল ডিস্ট্রিবিউশন, এমবেডেড ফাইন্যান্সিং, সফটওয়্যার অ্যাজ আ সার্ভিস (সাস) সমাধান এবং ‘ওয়ান ফার্মেসি’ ফ্র্যাঞ্চাইজি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নে কাজ করছে।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বিনিয়োগের পর পালসটেক বার্ষিক রাজস্ব প্রায় ২০ লাখ মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে ১৫ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি করেছে। গত ১৮ মাসে কোম্পানিটি প্রতি মাসে গড়ে ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। বর্তমানে ১৪ হাজারের বেশি ফার্মেসিকে সেবা দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

স্টার্টআপ বাংলাদেশ জানায়, বিনিয়োগ কার্যক্রম শুরুর পর থেকে তারা বিভিন্ন খাতের ৩৬টি সম্ভাবনাময় স্টার্টআপে বিনিয়োগ করেছে। মূলধন সহায়তার পাশাপাশি কৌশলগত দিকনির্দেশনা দিয়ে দেশের উদ্ভাবন ইকোসিস্টেম শক্তিশালী করতে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রসঙ্গত-ভেঞ্চার ক্যাপিটাল খাতে ‘এক্সিট’ হলো বিনিয়োগ থেকে সফলভাবে অর্থ ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়া। কোনো স্টার্টআপে বিনিয়োগের পর সেটি বড় হলে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান শেয়ার বিক্রি বা অন্য উপায়ে বিনিয়োগ তুলে নেয়। পালসটেকের ক্ষেত্রে স্টার্টআপ বাংলাদেশের এই সফল এক্সিট দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে।