ব্যাটারিচালিত রিকশায় নতুন আইন, রেজিস্ট্রেশনে মানতে হবে যেসব শর্ত

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:২০ অপরাহন, গাস্ট ১৭, ২০২৬

রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ব্যাটারিচালিত রিকশাকে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনতে নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করছে সরকার। রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে একাধিক শর্ত রাখা হচ্ছে। এর মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যমে ব্যাটারি রিচার্জ করা হলে রিকশার রেজিস্ট্রেশন ও নবায়ন না দেওয়ার বিধান রাখা হচ্ছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত এক পর্যালোচনা সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এসব তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করা হবে। এসব রিকশার রেজিস্ট্রেশন এখন থেকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) দেবে না।

রেজিস্ট্রেশনের আগে রিকশার ফিটনেস সার্টিফিকেট নিতে হবে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং জেলা পর্যায়ের ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউটের অটোমোবাইল শাখা থেকে এই সার্টিফিকেট নিতে হবে। এ জন্য নির্ধারিত ফি দিতে হবে।

ফিটনেস সার্টিফিকেট সিটি করপোরেশন বা পৌরসভায় জমা দেওয়ার পর নির্ধারিত ফি দিয়ে রেজিস্ট্রেশন নিতে হবে। এক বছর পর রেজিস্ট্রেশন নবায়নের সময়ও নতুন করে ফিটনেস সার্টিফিকেট দেখাতে হবে।

মীর শাহে আলম বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশার ব্যাটারি অবশ্যই সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে রিচার্জ করতে হবে। সৌরবিদ্যুতের বাইরে অন্য কোনো মাধ্যমে চার্জ করা হলে রিকশার রেজিস্ট্রেশন দেওয়া বা নবায়ন করা হবে না। বিষয়টি নিশ্চিত করবে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা।

Nagad

ঢাকার ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণে রাজধানীকে আটটি জোনে ভাগ করার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে চারটি করে মোট আটটি জোন থাকবে। প্রতিটি জোনের ই-রিকশার জন্য আলাদা রং নির্ধারণ করা হবে।

এক জোনের ই-রিকশা যাতে অন্য জোনে যেতে না পারে, সে জন্য জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

কোন রিকশা কোন রুটে চলতে পারবে এবং কোন রুটে চলতে পারবে না, সেটিও নতুন বিধিমালায় নির্ধারণ করা হবে। সৌরবিদ্যুতের বাইরে অন্য মাধ্যমে ব্যাটারি রিচার্জ করলে জরিমানার বিধানও রাখা হবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, নতুন বিধিমালা তৈরির কাজ চলছে। আগামী সপ্তাহে বিধিমালা প্রস্তুত করে দেওয়ার আশা করা হচ্ছে। এরপর সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশের যৌথ উদ্যোগে নতুন আইন ও বিধিমালা কার্যকরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।