দেশে গণতন্ত্র সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে: নাহিদ ইসলাম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন,‘সরকার ৫ মাসের মাঝেই গণতন্ত্রকে সংকুচিত করার চেষ্টা করছে। আমরা স্পষ্ট বলে দিতে চাই- এমন মনোবাসনা করলে পরিণতি ভালো হবে না। বিরোধীদল সংসদ ও বাইরে কথা বলবে— এটাই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চরিত্র। তবে গণতন্ত্র ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে। এ অবস্থায় সাংবাদিকদের কাছ থেকে, বাংলাদেশের গণমাধ্যমের কাছ থেকে আমরা একটি নিরপেক্ষ ভূমিকা প্রত্যাশা করি।’
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানে হোটেল ওয়েস্টিনে ডেমোক্রেটিক জার্নালিস্ট এলায়েন্সের (ডিজেএ) আয়োজনে ‘সাংবাদিকের চোখে জুলাই’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এ সরকার যদি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে না পারে এনসিপি তাদেরকে ক্ষমতায় থাকতে দেবে না। গ্যাস, বিদ্যুৎ তেলের সংকট যদি এ সরকার ঠিক করতে না পারে তাহলে এ সরকারকে ক্ষমতায় থাকতে দেবে না এনসিপি।’
তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যেসব সাংবাদিক শহিদ ও আহত হয়েছেন, সরকার যেন তাদের যথাযথ ব্যবস্থা নেয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নেওয়া উদ্যোগগুলোও যেন চলমান রাখা হয়।’
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাকে যদি হটকারিতা অক্ষ্যায়িত করা হয় সর্বেোচ্চ পর্যায় থেকে, তবে এটা রাজনৈতিক দমনের নতুন বয়ান বলে ধরে নেওয়া যায়। সরকার তার ৫ মাসের মাঝেই জনগণের আস্থা হারিয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও দ্রব্যমূল্যে দাম বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে। এর প্রতিবাদকে হটকারিতা বলে রাস্তায় নামলে দমনের চেষ্টা করা হলে পরিণত পতিত সরকারে চেয়ে ভয়াবহ হবে। নিজেদের ব্যর্থতাকে আড়াল করতে বিরোধীদলের প্রতিবাদকে হটকারিতা আখ্যায়িত করতে চাচ্ছে বিএনপি সরকারে শীর্ষ নেতা। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে সরকার গণতন্ত্রকে সংকোচিত করার অশুভ চেষ্টা করে যাচ্ছে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই- সরকারের সমালোচনাকে সহ্য না করে হটকারিতা বলা গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত। এমন মনোভাবাপূর্ণ অবস্থান থেকে সরে আসতে আহ্বান করছি।’
এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, ‘গণমাধ্যম জুলাই আন্দোলনকে যেমন ধারণ করেছে, তেমন কিছু সাংবাদিক তার বিরোধিতাও করেছে, আমরা দেখেছি। তবে গণমাধ্যমের ভূমিকা জুলাই অন্দোলনকে বেগবান করেছে। রাষ্ট্রে চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের দাবি করছি। সরকারের ভালো কাজের সমালোচনা করবেন, আমাদের দায়িত্বশীল হতেও ভূমিকা রাখবেন।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর দ্রব্যমূল্যের দাম বেড়েছে, চাঁদাবাজিও বেড়েছে। এ সরকার কথা রাখেনি। যা বলেছিলেন তা রাখেনি, প্রতারণা করেছে, বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তাই তাদেরকে প্রতারক বলতে পারি।’
বিদ্যুতের সংকট দেশের সব রেকর্ড ভেঙেছে অভিযোগ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ব্যাংক লোপাটকারী, দুর্নীতিবাজদের সুবিধা দিচ্ছে এ সরকার। কৃষি কার্ড, হেলথ কার্ড পাচ্ছে বিএনপির সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সাধারণ জনগণ তা পাচ্ছে না।’

