বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিগগিরই পিএইচডি চালুর উদ্যোগ: শিক্ষামন্ত্রী
দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিগগিরই পিএইচডি প্রোগ্রাম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সোমবার (১৭ আগস্ট) ঢাকার শেরাটন হোটেলে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশের (এআইইউবি) উদ্যোগে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘কিউএস বাংলাদেশ ফোরাম ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছে ১৯৯২ সালে। ২০২৬ সালে এসে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সুযোগ আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন পিএইচডি প্রোগ্রাম চালুর অনুমতি দেওয়া হবে না—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।
তিনি বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষায় গবেষণার সুযোগ বাড়াতে হবে। ক্রস-বর্ডার শিক্ষা ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। দেশে শিক্ষক ও গবেষকের কোনো সংকট নেই। হাজারো গবেষক নিজেদের দক্ষতা ও জ্ঞান দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করছেন।
আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান এখনো পিছিয়ে রয়েছে। এ অবস্থার উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে।
এর মাধ্যমে বাংলাদেশে আরও বেশি বিদেশি শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষার জন্য আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও আন্তর্জাতিকীকরণে দেশের সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে পারস্পরিক পার্থক্য ভুলে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান ইউজিসি চেয়ারম্যান।
ফোরামে কিউএসের ভাইস প্রেসিডেন্ট-স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল এনগেজমেন্ট ড. অশ্বিন ফার্নান্দেজ, চিফ কমার্শিয়াল অফিসার জেসন নিউম্যান এবং রিজিওনাল পার্টনারশিপবিষয়ক পরিচালক রামি আওয়াদ বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এআইইউবির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিজ অব বাংলাদেশের (এপিইউবি) মহাসচিব ইশতিয়াক আবেদীন। বক্তব্য দেন এপিইউবির সভাপতি ড. মো. সবুর খান। ধন্যবাদ বক্তব্য রাখেন এআইইউবির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও চেয়ারম্যান নাদিয়া আনোয়ার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে কিউএস র্যাঙ্কিংসের পদ্ধতি এবং কিউএস র্যাঙ্কিংস ২০২৮ সাইকেল নিয়ে পৃথক দুটি সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের অংশগ্রহণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে ভবিষ্যৎ দক্ষতার ঘাটতি পূরণ এবং উচ্চশিক্ষায় ডিজিটাল রূপান্তর নিয়ে দুটি প্যানেল আলোচনা হয়।
আলোচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মদক্ষতা, শিল্প খাতের চাহিদার সঙ্গে শিক্ষার সমন্বয়, উচ্চশিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ডিজিটাল রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে।
ফোরামে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষাবিদ, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য, ইউজিসির সদস্য, নীতিনির্ধারক, সরকারি প্রতিনিধি, কূটনৈতিক মিশন, আন্তর্জাতিক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী ও শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আয়োজকেরা জানান, উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণ, গবেষণার বৈশ্বিক দৃশ্যমানতা, শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব জোরদারের ওপর ফোরামে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিংস ২০২৮ সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রস্তুতি ও উন্নয়ন রোডম্যাপ নিয়েও আলোচনা হয়।

