‘কেস ফাইল না করে ভেনিস ছাড়ছি না’, দৃঢ় ঘোষণা বাঁধনের

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:৪৫ অপরাহন, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬

ইতালির ভেনিসে হামলা ও হেনস্তার শিকার হওয়ার পর নিজের শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। তিনি জানিয়েছেন, ভালো আছেন এবং ঘটনার শেষ না দেখে ভেনিস ছাড়বেন না।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় দুপুরের পর ফেসবুক লাইভে এসে এ কথা জানান তিনি। বাঁধন বলেন, হামলার ঘটনায় তিনি ভেঙে পড়েননি এবং তাঁকে ভয় দেখানো বা ভেঙে ফেলা সহজ নয়।

হামলার পর স্থানীয় পুলিশ তাঁকে সহযোগিতা করেছে বলেও জানান বাঁধন। তাঁর ভাষ্য, পুলিশ তাঁকে নিরাপদ একটি স্থানে নিয়ে যায়। পরে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

বাঁধন বলেন, বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত তাঁকে ফোন করেছেন এবং দূতাবাসের কর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে থানায় যাবেন। সেখানে হামলার ঘটনায় মামলা করবেন তিনি।

ঘটনার প্রমাণ তাঁদের কাছে রয়েছে দাবি করে বাঁধন বলেন, এরই মধ্যে কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে হামলার পর তাঁকে ফোন, মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে সাহস ও সমর্থন জানানোর জন্য দেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

বাঁধনের অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে তাঁর সক্রিয় অবস্থানের কারণেই তাঁকে লক্ষ্য করে ইতালিতে হামলা ও হেনস্তা করা হয়েছে। তিনি নিজেকে ওই আন্দোলনের একজন ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

Nagad

নিজের ওপর হামলার চেয়েও ভাই ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হেনস্তার ঘটনায় বেশি ক্ষুব্ধ বলে জানান বাঁধন। বিশেষ করে ভাইয়ের স্ত্রী ও তিন বছরের শিশুসন্তানের সঙ্গে আচরণকে তিনি ন্যক্কারজনক বলে উল্লেখ করেন।

ঘটনার বিচার ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভেনিস না ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বাঁধন বলেন, ‘আমি কেস ফাইল না করে ভেনিস থেকে বাংলাদেশে আসছি না। এটার শেষ আমি দেখে ছাড়ব।’

চলতি সপ্তাহে ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার দলের সঙ্গে অংশ নেন বাঁধন। উৎসবের প্রতিযোগিতামূলক অরিজন্তি বিভাগে জায়গা পেয়েছে সিনেমাটি। ৬ সেপ্টেম্বর সালা দারসেনা থিয়েটারে সিনেমাটির বিশ্ব প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়।

প্রিমিয়ারের পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘুরতে বের হলে হামলা ও হেনস্তার শিকার হন বলে অভিযোগ করেন বাঁধন। তাঁর দাবি, তাঁকে পানি, কোমলপানীয় ও ডিম ছুড়ে মারা হয় এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এ সময় তাঁর ভাইয়ের স্ত্রী ও তিন বছরের শিশুসন্তানও সঙ্গে ছিলেন।

বাঁধনের আরও অভিযোগ, হামলাকারীদের কয়েকজন নিজেদের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী এবং ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তাঁকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলেও আখ্যা দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।

এ ঘটনার পর দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা বাঁধনের পাশে দাঁড়িয়েছেন। অন্যদিকে, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটনার শেষ দেখে তবেই ভেনিস ছাড়ার কথা জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।