চীন ও ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পেলেন ট্রাম্প

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:২৭ অপরাহন, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬

রাশিয়ার ওপর কঠোর অর্থনৈতিক চাপ তৈরির লক্ষ্যে নতুন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কসংক্রান্ত একটি বিল অনুমোদন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ। বিলটি এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হয়েছে। আইনটি কার্যকর হলে রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পাবেন ট্রাম্প। এর আওতায় চীন ও ভারতও পড়তে পারে।

স্থানীয় সময় বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদে ২৬২-১৫৯ ভোটে বিলটি পাস হয়। এর আগে গত মাসে মার্কিন সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে বিলটি অনুমোদিত হয়। প্রতিনিধি পরিষদে পাসের পর এখন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে বিলটি।

‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামের বিলটিতে রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাত, দেশটির কর্মকর্তাদের পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ ট্যাংকারগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা রয়েছে।

বিলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রাশিয়ার জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা। এতে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে। চীন ও ভারত এ ব্যবস্থার আওতায় পড়তে পারে।

তবে বিষয়টি নিয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কিছু ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, প্রেসিডেন্টকে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়ার ফলে এর প্রয়োগের পরিধি অনেক বেড়ে যেতে পারে। প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট গ্রেগরি মিক্সও বিলটির কিছু বিধানের সমালোচনা করেছেন।

বিলটির মূল উদ্যোক্তাদের একজন ছিলেন প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনার পর ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে এটি কংগ্রেসে আবার গতি পায়।

Nagad

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও বিলটি পাসের পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের রাশিয়ার ওপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক চাপ তৈরির আহ্বান জানানো হয়েছে।

তবে বিলটি এখনো আইনে পরিণত হয়নি। ট্রাম্প স্বাক্ষর করলে এটি কার্যকর হবে এবং এরপর বিলের আওতায় থাকা দেশগুলোর বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রয়োগ করা যাবে।