অস্ত্রের সন্ধান দিলে তথ্যদাতাকে পুরস্কার, আইনি ঝামেলা নয়: এসআরবি

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:৪৬ পূর্বাহ্, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬

দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। তথ্যদাতাকে কোনো আইনি জটিলতায় না ফেলে সরকারি নিয়মে পুরস্কৃত করার কথাও জানিয়েছে বাহিনীটি।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান বাহিনীর লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে সরকার ও এসআরবির পক্ষ থেকে বিশেষ ক্যাম্পেইন চলছে। বাংলাদেশ পুলিশ, সেনাবাহিনী ও এসআরবির অভিযানে ইতোমধ্যে বিপুলসংখ্যক অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত করতে এখন সাধারণ মানুষের তথ্য প্রয়োজন।

ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের অবস্থান সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে কিছু তথ্য এসআরবির কাছে রয়েছে। তবে পর্যাপ্ত তথ্যের অভাবে অনেক ক্ষেত্রে সেগুলো শনাক্ত করে উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই যার কাছে যে তথ্য আছে, তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, এমনও হতে পারে, কেউ কোনো ঘটনার সময় থানায় থাকা অস্ত্র নিয়ে চলে গেছেন। তার হয়তো কোনো দুরভিসন্ধি নেই। পরিস্থিতির কারণে বা তাৎক্ষণিকভাবে অস্ত্র নিয়ে যাওয়ার পর এখন কী করবেন, তা বুঝতে পারছেন না। বিষয়টি জানাতেও ভয় পাচ্ছেন, কারণ আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়টি সামনে আসে। এই সমস্যার সমাধানেই তথ্য দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এসআরবির এ কর্মকর্তা বলেন, ‘আপনারা অস্ত্রগুলো যেকোনো একটি জায়গায় রেখে আমাদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন। ওই জায়গায় দুটি পিস্তল, একটি রাইফেল, ১০টি ম্যাগাজিন বা গুলি আছে-এতটুকু তথ্যই আমাদের জন্য যথেষ্ট। আমরা গিয়ে সেগুলো সংগ্রহ করে নিয়ে আসব।’

Nagad

তিনি আরও বলেন, তথ্যদাতাকে সরকারিভাবে পুরস্কৃত করা হবে এবং তাকে কোনো আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে হবে না।

মোহাম্মদপুরের অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, অপরাধপ্রবণতা কমিয়ে আনা একটি চলমান প্রক্রিয়া। এক রাতের মধ্যে পরিস্থিতির পুরো পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে যেসব এলাকায় অপরাধের প্রবণতা বেশি, সেখানে এসআরবির পক্ষ থেকে জোরালো কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, অপরাধপ্রবণ এলাকায় এসআরবি ব্যাটালিয়নের সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। অভিযান পরিচালনার জন্য অফিসারের সংখ্যা বৃদ্ধি, গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার এবং সাইবার মনিটরিং বাড়ানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে যত ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব, তার সবগুলোই এসআরবি নিয়েছে।

মোহাম্মদপুর থেকে অপরাধ নির্মূলের বিষয়ে আশাবাদ জানিয়ে এসআরবির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আরেকটু অপেক্ষা করার জন্য আমাদের সহযোগিতা করুন। পুলিশ বাহিনীসহ যতগুলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আছে, সবাইকে সহযোগিতা করুন। ইনশাআল্লাহ, খুব শিগগিরই মোহাম্মদপুর থেকে সমস্ত অপরাধ নির্মূল করতে আমরা সক্ষম হবো।’