দু’বার প্রাণঘাতী ইনজেকশনেও বেঁচে গেলেন ক্রিস্টা, বছরের বাকি মৃত্যুদণ্ড স্থগিত

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৫৯ পূর্বাহ্, অক্টোবর ২, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের দুই ডোজ দেওয়ার পরও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা পাইক বেঁচে গেছেন। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এই ব্যর্থতার পর চলতি বছরের বাকি সময়ের জন্য রাজ্যের সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত ঘোষণা করেছেন টেনেসির গভর্নর।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) কয়েক দফা আইনি লড়াইয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার পক্ষে আদেশ দেন। এরপর কারা কর্তৃপক্ষ প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উদ্যোগ নেয়।

তবে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় পেন্টোবারবিটালের দুই ডোজ দেওয়ার পরও ক্রিস্টা জ্ঞান হারাননি। তার হৃদস্পন্দনও সচল ছিল। পরে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থতার ঘটনায় কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এরই মধ্যে তার আইনজীবীরা আদালতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বন্ধের আবেদন করেছেন। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন টেনেসির গভর্নর।

প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রিস্টার রক্তে পেন্টোবারবিটালের মাত্রা কার্ডিওভাসকুলার ফেইলিউরের জন্য যথেষ্ট ছিল না।

১৯৯৫ সালে ১৯ বছর বয়সী সহপাঠী কলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে ক্রিস্টা পাইককে ১৯৯৬ সালে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ওই হত্যাকাণ্ড তিনি তার তৎকালীন প্রেমিক ট্যাডারিল শিপের সঙ্গে মিলে করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে তার বয়স ৫০ বছর।

Nagad

টেনেসির ইতিহাসে প্রায় ২০০ বছরের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া প্রথম নারী হিসেবে ক্রিস্টা পাইকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের মে মাসেও টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় জটিলতা দেখা দিয়েছিল। টনি ক্যারুথার্স নামে আরেক দণ্ডিত অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় তার হাতে শিরা খুঁজে পেতে ব্যর্থ হন সংশ্লিষ্টরা। পরে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়।

ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরেও ব্যর্থতার পর চলতি বছরের বাকি সময়ের জন্য টেনেসিতে নির্ধারিত অন্যান্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করা হয়েছে।