বাংলাদেশের পর্যটন খাতে ১২০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে চায় জাপান

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:১৩ অপরাহন, অক্টোবর ১৮, ২০২৬

বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে প্রাথমিকভাবে ১২০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে জাপানি বিনিয়োগকারীদের একটি প্রতিনিধিদল। এ বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে দেশের পর্যটন অবকাঠামো ও আতিথেয়তাসংশ্লিষ্ট সেবার উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে বৈঠকে জাপানি বিনিয়োগকারীরা এ পরিকল্পনার কথা জানান।

মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের প্রতি গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন জাপানি বিনিয়োগকারীরা। পর্যটন অবকাঠামো ও আতিথেয়তাসংশ্লিষ্ট সুযোগ-সুবিধা উন্নয়নেও সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী তাঁরা।

বিনিয়োগের পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়ে পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত জাপানি প্রতিনিধিদলকে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে বিনিয়োগে জাপানি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ দেখে আমরা আনন্দিত। তাঁদের বিনিয়োগ প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হলে সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’

মন্ত্রী বলেন, পারস্পরিক লাভজনক সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে পর্যটন খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে আগ্রহী সরকার। এ ক্ষেত্রে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে বিনিয়োগকারী ও বাংলাদেশ—উভয় পক্ষই উপকৃত হয়।

বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্যময় পর্যটন আকর্ষণের সমন্বয় রয়েছে দেশে। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন, বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার এবং সিলেটের মনোরম চা-বাগান বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ।

Nagad

পর্যটনমন্ত্রী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং পর্যটনসংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ও সেবার মান উন্নয়নের মাধ্যমে এ খাতের বিকাশে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

জাপানকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে জাপানি বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মন্ত্রী বলেন, ‘জাপান বাংলাদেশের পুরোনো বন্ধু। আমাদের পর্যটন খাতের উন্নয়নে আগ্রহী জাপানি বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিতে সরকার সবসময় প্রস্তুত।’

বৈঠকে জাপানি বিনিয়োগকারীদের সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্র পরিদর্শন এবং বিনিয়োগের সুযোগ মূল্যায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের (বিটিবি) একটি প্রতিনিধিদল দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।

জাপানি প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রস্তাবিত ১২০ কোটি মার্কিন ডলারের বিনিয়োগের বিষয়ে জাপানি বিনিয়োগকারীরা আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা দেওয়ার পর তা সরকারের বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা হবে।