পাঁচ দিনের ছুটিতে রাজধানী ছাড়ছেন অনেকে, বাড়তি ভাড়ায় ক্ষোভ
দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা পাঁচ দিনের ছুটি শুরু হওয়ায় রাজধানী ঢাকা ছাড়ছেন অনেকে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল থেকেই যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, ধোলাইপাড় ও আশপাশের বাস টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে। এদিকে যাত্রীদের চাপের সুযোগে কোনো কোনো বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের ভাষ্য, রাজধানীর অন্যতম বড় বাস টার্মিনাল সায়েদাবাদ ও এর আশপাশের এলাকায় সকাল থেকেই যাত্রীদের আনাগোনা বেড়েছে। ছুটি শুরু হওয়ায় বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন যাত্রীরা।
যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তার উত্তর প্রান্ত থেকে শরীয়তপুর রুটে চলাচলকারী ফেম পরিবহনের টিকিট বিক্রেতা সোহেল আহমেদ বলেন, ছুটি শুরু হওয়ায় যাত্রীর সংখ্যা অনেক বেশি। আগের দিনও যাত্রীর চাপ ছিল। শরীয়তপুরের ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৩০০ টাকা।
শরীয়তপুরের নড়িয়া যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন মিজান হোসেন। তিনি বলেন, বাসের পাশাপাশি যাত্রীর সংখ্যাও বেশি। তবে ভাড়া বাড়িয়ে নেওয়া হচ্ছে। আগে শরীয়তপুরের ভাড়া ছিল ২৫০ টাকা। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর তা ২৮০ টাকা করা হয়। কিন্তু এখন ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৩০০ টাকা।
বরিশালে যাওয়ার জন্য সায়েদাবাদের জনপথ মোড়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন লিয়াকত । তিনি একটি ভোগ্যপণ্য বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তাঁর শ্বশুরবাড়ি বরিশালে। ছুটিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সেখানে বেড়াতে যাচ্ছেন তিনি।
আব্দুর রহমান বলেন, যাত্রীর চাপ কিছুটা বেশি থাকায় বাসগুলো অতিরিক্ত ভাড়া চাইছে। বরিশালের লোকাল বাসের ভাড়া সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা হলেও এখন ৬০০ থেকে ৭০০ টাকার নিচে কোনো বাস ভাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।
কুমিল্লা রুটেও বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। তাঁদের ভাষ্য, অন্য সময়ে এ রুটে ভাড়া ২০০ থেকে ২৫০ টাকা হলেও এখন নেওয়া হচ্ছে ৩০০ টাকা।
তবে কুমিল্লা রুটে চলাচলকারী তিশা পরিবহনের কর্মী শাহাদাত হোসেন বলেন, তাঁরা সরকারি নির্ধারিত ভাড়ার বেশি নেন না। অন্য সময়ে ভাড়া কম নেওয়া হয়।
পাঁচ দিনের ছুটি
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) থেকে শুরু হয়েছে টানা পাঁচ দিনের ছুটি। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আগামী ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি কাটাবেন। এ সময়ে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শেয়ারবাজার ও আদালতও বন্ধ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, টানা ছুটিকে কেন্দ্র করে সোমবার বিকেল থেকেই বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীদের ভিড় বাড়তে শুরু করে।
পূজার ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটির মাঝখানে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবারও ছুটি ঘোষণা করায় টানা পাঁচ দিনের ছুটির সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর আগে ১৭ অক্টোবর শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও অফিস খোলা ছিল।
গত ৫ অক্টোবর সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সাধারণ ছুটি ও নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটির তারিখ পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে এবং ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি রয়েছে। ২২ অক্টোবর কর্মদিবস থাকলেও ওই দিন ছুটি ঘোষণার প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়। এর সঙ্গে ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় টানা পাঁচ দিনের ছুটি উপভোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

