ফুটপাতে দোকান বসালেই মালামাল জব্দ, হবে মামলা

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:৫৩ অপরাহন, অক্টোবর ২৪, ২০২৬

ঢাকার সড়ক ও ফুটপাত দখল করে অবৈধ দোকান বসালে এখন থেকে সরাসরি মামলা দায়ের এবং মালামাল জব্দ করা হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেছেন, মানবিকতার দোহাই দিয়ে সড়ক ও ফুটপাত দখলের কোনো সুযোগ নেই।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন আয়োজিত সাপ্তাহিক ‘ক্লিনিং ডে’ উপলক্ষে বিশেষ মশক নিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডে একযোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, সড়কে যানজট, যত্রতত্র ময়লা ফেলা এবং পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টির পেছনে অবৈধ হকার ও ভাসমান দোকানগুলোর বড় ভূমিকা রয়েছে। ঢাকাবাসী এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চায়। তাই ডিএসসিসির নির্ধারিত নিয়মের বাইরে দোকান বসালে মালামাল জব্দের পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউমার্কেট এলাকার সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার বিষয়ে আবদুস সালাম জানান, আগামী সপ্তাহেই সেখানে আবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। কোনো অবস্থাতেই সড়কে হকার বসতে দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই। কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমতে দেওয়া যাবে না।

রাজধানীর পরিবেশ রক্ষা, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ ও যানজট নিরসনে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির পাশাপাশি সচেতনতামূলক শোভাযাত্রা ও প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

Nagad

মালিবাগে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র (এসটিএস) সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, জনস্বার্থে সিআইডি কর্তৃপক্ষের অনুরোধে কেন্দ্রটি সরিয়ে সেখানে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পাশাপাশি ওই এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন একটি বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। চলতি মাসের মধ্যেই নির্মাণকাজ শেষ হবে বলে জানান তিনি।

‘ক্লিনিং ডে’ উপলক্ষে পরিচ্ছন্নতা অভিযানটি সিআইডি কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে শান্তিনগর, কাকরাইল ও নয়াপল্টন হয়ে ফকিরাপুলে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় ডিএসসিসি প্রশাসক বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা বর্জ্য পরিষ্কার এবং অবৈধ দোকান অপসারণের কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে সিটি করপোরেশনের নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধনকর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও অংশ নেন। বিভিন্ন ওয়ার্ডে মাইকিং ও সচেতনতামূলক শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়।