লগি-বৈঠা আন্দোলনের দুই দশক, দুই দিনের কর্মসূচি জামায়াতের

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:৪০ অপরাহন, অক্টোবর ২৫, ২০২৬

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠা আন্দোলনের দুই দশক পূর্তি উপলক্ষে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ওই ঘটনায় জড়িত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিচারের আওতায় আনার দাবিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ২৭ অক্টোবর ঢাকা মহানগরে আলোচনা সভা এবং ২৮ অক্টোবর সারা দেশে বিক্ষোভ, আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে দলটি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে এক বিবৃতিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকার রাজপথে লগি-বৈঠা নিয়ে নজিরবিহীন তাণ্ডব ও নৃশংসতা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়। তাঁর দাবি, সেদিনের হত্যাকাণ্ড ও নৈরাজ্যের মধ্য দিয়ে দেশে দীর্ঘ দুই দশকের ফ্যাসিবাদ, গণতন্ত্র হত্যা এবং নাগরিক অধিকার হরণের সূচনা হয়েছিল।

মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, ঐতিহাসিক ওই ঘটনার দুই দশক পূর্ণ হতে চললেও হত্যাকারীদের বিচার হয়নি। এটি দুঃখজনক ও লজ্জাজনক উল্লেখ করে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে সরকারের প্রতি দাবি জানান।

বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, কেন্দ্রীয় সংগঠন হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ২৭ অক্টোবর ঢাকা মহানগরে আলোচনা সভা এবং ২৮ অক্টোবর সারা দেশে বিক্ষোভ, আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। এসব কর্মসূচিতে দলটির নেতারা অংশ নেবেন।

Nagad

এ উপলক্ষে জামায়াতের সব শাখাকে কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি কর্মসূচি সফল করতে কৃষক-শ্রমিক, ছাত্র-জনতাসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর যা ঘটেছিল

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ছিল তৎকালীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের শেষ দিন। ওই দিন ঢাকায় সমাবেশের আয়োজন করে বিরোধী দল আওয়ামী লীগ ও তাদের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট। সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি কে এম হাসান যাতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানের দায়িত্ব নিতে না পারেন, সে দাবিতে তখন আন্দোলন করছিল জোটটি।

এমন পরিস্থিতিতে ২৮ অক্টোবর ঢাকার পল্টন ও বায়তুল মোকাররম এলাকায় জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। ওই দিন ঢাকার রাজপথে প্রকাশ্যে গুলি চালানো এবং পিটিয়ে মানুষ হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে।

এর আগের ও পরের দিনও দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক সংঘর্ষ ঘটে। টানা তিন দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর রাজপথে আওয়ামী লীগের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়। এ আন্দোলনই পরবর্তী সময়ে ‘লগি-বৈঠা আন্দোলন’ নামে পরিচিতি পায়।