৩০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ, তবু চালডালে কর্মীদের তিন মাসের বেতন বকেয়া
বাংলাদেশের অনলাইন মুদি পণ্য বিক্রির অন্যতম পরিচিত প্রতিষ্ঠান চালডাল ডটকমকে ঘিরে তৈরি হয়েছে সংকট। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অন্তত ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ পাওয়ার তথ্য থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির যশোরের কল সেন্টারের ছয় শতাধিক কর্মীর তিন মাসের বেতন বকেয়া থাকার অভিযোগ উঠেছে।
প্রথম আলোর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে অবস্থিত চালডালের কল সেন্টারের কর্মীরা বকেয়া বেতনের দাবিতে কয়েক দিন ধরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। গত সোমবার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পার্কের প্রধান ফটক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
কর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়ায় তাঁরা পরিবার চালানো, বাসাভাড়া দেওয়া ও দৈনন্দিন খরচ মেটাতে সমস্যায় পড়েছেন। তাঁদের দাবি, তাঁরা কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন করছেন না; নিজেদের পাওনা বেতনের দাবিতেই কর্মসূচি পালন করছেন।
বিপুল বিনিয়োগ, তবু কেন সংকট?
২০১৩ সালে যাত্রা শুরু করা চালডাল ডটকম দেশের অনলাইন মুদি পণ্য বিক্রির বাজারে পরিচিতি পায়। ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর ও সিলেটসহ বিভিন্ন শহরে পণ্য সরবরাহের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী সংস্থা ওয়াই কম্বিনেটর, ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) ও এল ক্যাটারটনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিনিয়োগ পেয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড, আইডিএলসি এবং বাংলাদেশ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল লিমিটেডও চালডালে বিনিয়োগ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এত বিনিয়োগের পরও কর্মীদের বেতন বকেয়া থাকার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সম্ভাব্য কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে আগ্রাসী সম্প্রসারণ, পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি এবং নতুন বিনিয়োগে স্থবিরতার কথা বলা হয়েছে। তবে এসব কারণ চালডালের বর্তমান সংকটের নিশ্চিত ব্যাখ্যা কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
সমাধানে আলোচনায় তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ
তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের যুগ্ম সচিব (প্রশাসন অধিশাখা) মোহাম্মদ সাইফুল হাসান জানান, বিষয়টি জানার পর যশোরের বিনিয়োগকারীদের সংগঠনের সঙ্গে অনলাইন সভা করে দ্রুত সমাধানের উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, শত শত কর্মীর বেতন বকেয়া থাকার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি সরাসরি তাঁদের এখতিয়ারভুক্ত না হলেও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের ক্যাম্পাসে এমন ঘটনা ঘটায় তাঁরা গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি দেখছেন।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
চালডাল ডটকমের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিম আলিম এবং সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা জিয়া আশরাফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন ধরেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে বেতন বকেয়া থাকার কারণ এবং তা পরিশোধের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চালডালের এই পরিস্থিতি দেশের ই-কমার্স খাতে কর্মীদের অধিকার, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং বিনিয়োগের অর্থ ব্যবহারের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে এর প্রকৃত আর্থিক অবস্থা এবং সংকটের কারণ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন।
সূত্র: প্রথম আলো

