রায়হান হত্যা মামলায় ছয় আসামির সাজা, রায়ে সন্তুষ্ট বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষ

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:১৯ অপরাহন, অক্টোবর ২৯, ২০২৬

সিলেটে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনে যুবক রায়হান আহমদ (৩৪) হত্যা মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষ। বৃহস্পতিবার সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালত এ মামলার ছয় আসামির মধ্যে একজনকে মৃত্যুদণ্ড, দুজনকে যাবজ্জীবন এবং অপর তিনজনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন। তবে একজন আসামির সাজা নিয়ে আপিলের চিন্তাভাবনা করছে রাষ্ট্রপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আব্দুল মজিদ মুন্সী আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রায়হানের মা ও মামলার বাদী সালমা বেগম বলেন, দীর্ঘ ছয় বছর পর এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। রায়হানকে নির্যাতন করে যারা হত্যা করেছে, তাদের কয়েকজন পালিয়ে গেছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করে সাজা কার্যকরের দাবি জানান তিনি।

রায় ঘোষণার আগে সালমা বেগম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কোনো আসামির জামিন হয়নি। কিন্তু ২০২৫ সালে মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পরও কীভাবে প্রথম তিন আসামি জামিন পেলেন, তা নিয়ে তাঁর প্রশ্ন রয়েছে।

দীর্ঘ ছয় বছর ধরে মামলা চালাতে গিয়ে নিজের ও পরিবারের ভোগান্তির কথা তুলে ধরে তিনি এ সময়ে পাশে দাঁড়ানো বিভিন্ন পেশার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। রায়ে দেওয়া সাজা নিয়ে আইনজীবী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে আপিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বলেও জানান তিনি।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মোমিনুল ইসলাম মোমিন বলেন, তাঁরা রায়ে সন্তুষ্ট। তবে একজন আসামির সাজা নিয়ে আপিল করার চিন্তাভাবনা রয়েছে।

Nagad

রায়ে তৎকালীন পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বরখাস্ত কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস ও কনস্টেবল হারুন অর রশীদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁদের আরও তিন বছর করে কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

এ ছাড়া বরখাস্ত এসআই আশেক এলাহী, এসআই হাসান উদ্দিন ও গণমাধ্যমকর্মী কোম্পানীগঞ্জের আব্দুল্লাহ আল নোমানকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

রায় ঘোষণার সময় আসামিদের মধ্যে এএসআই আশিক এলাহি ছাড়া অন্যরা পলাতক ছিলেন।