ক্ষুদে গণিতবিদদের নিয়ে বাইসিসের ‘কিডজানা ট্যালেন্ট ফেস্ট’

রাজধানীর বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে শিশু-কিশোরদের মেধা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশে আয়োজিত হয়েছে ‘কিডজানা ট্যালেন্ট ফেস্ট ২০২৬’। বাংলাদেশ ইয়াং সায়েন্টিস্টস অ্যান্ড ইনোভেটরস সোসাইটির (বাইসিস) উদ্যোগে এবং কিডজানা ক্রিয়েটিভ সেন্টারের সহযোগিতায় আয়োজিত এ উৎসবে ইন্টারন্যাশনাল ম্যাথ জিনিয়াস অলিম্পিয়াডের (ইমগো) জাতীয় বাছাই পর্বে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পুরস্কার ও সম্মাননা দেওয়া হয়।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে কিডজানা ক্রিয়েটিভ সেন্টারের আফটার স্কুল প্রোগ্রামের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের গ্রাজুয়েশন প্রদান করা হয়।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের সভাপতি এবং দেশে গণিত অলিম্পিয়াড আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ মুনির হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন টেকনোলজি মিডিয়া গিল্ড বাংলাদেশের (টিএমজিবি) নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ কাওছার উদ্দীন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কিডজানার সিইও ও বাইসিসের সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন।

অনুষ্ঠানে ইন্টারন্যাশনাল ম্যাথ জিনিয়াস অলিম্পিয়াড (ইমগো) ২০২৬-এর ন্যাশনাল সিলেকশন রাউন্ডে বিজয়ী ও উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। তাদের গাণিতিক দক্ষতা, যুক্তিনির্ভর চিন্তা ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা যাচাইয়ের মাধ্যমে নির্বাচিত করা হয় চূড়ান্ত প্রতিযোগীদের।

আয়োজকরা জানান, জাতীয় বাছাই পর্বে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা আগামী জানুয়ারি ২০২৭ সালে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিতব্য ইমগো ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে। সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে তারা।

পুরস্কার বিতরণী ছাড়াও উৎসবে শিক্ষার্থীদের জন্য গণিত অলিম্পিয়াড ও রোবোটিকস বিষয়ে বিশেষ সেশনের আয়োজন করা হয়। এসব আয়োজনের মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, গণিত ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমের প্রতি আগ্রহী করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

Nagad

অনুষ্ঠানে কিডজানার সিইও মোসাদ্দেক হোসেন প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য ও কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, বিজ্ঞানমনস্কতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও উদ্ভাবনী দক্ষতা বিকাশে কিডজানা শিক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে কাজ করছে। প্রতিটি শিশুর মধ্যেই সৃষ্টিশীল মানুষ, চিন্তাবিদ ও ভবিষ্যৎ উদ্ভাবক হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সম্ভাবনা বিকশিত করতে আনন্দময়, হাতে-কলমে ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষার্থীদের এমন সাফল্য ও আয়োজনকে স্বাগত জানান তারা।