হাওয়েল নৈপুন্যে দ্বিতীয় জয় চট্টগ্রামের

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:৫৩ পূর্বাহ্ণ, ২৫/০১/২০২২

ইংল্যান্ডের বেনি হাওয়েলের নৈপুন্যে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের অষ্টম আসরে দ্বিতীয় জয় পেল চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। আজ নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ২৫ রানে হারিয়েছে মুশফিকুর রহিমের খুলনা টাইগার্সকে। প্রথম ম্যাচ জিতলেও নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে হারলো খুলনা।

প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৯০ রান করে চট্টগ্রাম। জবাবে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৬৫ রান করে খুলনা। ব্যাট হাতে হাওয়েল ২০ বলে অপরাজিত ৩৪ ও বল হাতে ১ উইকেট নেন।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্বান্ত নেন খুলনা টাইগার্সের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। ব্যাট হাতে নেমে মারমুখী মেজাজে ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কেনার লুইস ও ইংল্যান্ডের উইল জ্যাকস। ৯ বল খেলেই ২৯ রান তুলেন তারা। সেখানে ৭ বলে ১৭ রান অবদান ছিলো জ্যাকসের। ১টি চার ও ২টি ছক্কা মারেন তিনি।

জ্যাকসকে হারালেও পাওয়া-প্লের সুবিধা নিয়ে দ্রুত রান তোলার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছিলেন লুইস। চতুর্থ ওভারের চতুর্থ বলে আউট হবার আগে স্কোর বোর্ডে ৫২ রান তুলে দেন তিনি। ২টি করে চার-ছক্কায় ১৪ বলে ২৫ রান করেন লুইস।

মিডল-অর্ডারের তিন ব্যাটার আফিফ-সাব্বির রহমান ও অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ দলের বড় স্কোরের ভিত গড়ে দেন। আফিফ ১৩ বলে ১৫, সাব্বির ৩৩ বলে ৩২ ও মিরাজ ২৩ বলে ৩০ রান করেন। নিজের ইনিংসে ৪টি বাউন্ডারি মারেন মিরাজ।

১৪তম ওভারে উইকেটে আসেন ইংল্যান্ডের বেনি হাওয়েল। প্রথম দুই ম্যাচের এবারও ব্যাট হাতে ঝড় তুলেন তিনি। ১৭তম ওভারে শামিম হোসেনকে ১টি করে চার-ছক্কায় ২১ রান তুলেন তিনি। ঐ ওভারে শ্রীলংকার থিসারা পেরেরার হাতে জীবনও পেয়েছিলেন হাওয়েল। ১৯তম ওভারে নবীন উল হককে তিনটি বাউন্ডার মারেন হাওয়েল।

Nagad

তবে শেষ ওভারে দু’টি ছক্কায় চট্টগ্রামকে বড় সংগ্রহ দাঁড় করাতে গুরুত্বপুর্ন অবদান রাখেন নাইম ইসলাম। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৯০ রান করে চট্টগ্রাম। ২০ বলে ৪টি চার ও ১টি ছক্কায় অপরাজিত ৩৪ রান করেন হাওয়েল। শেষ বলে রান আউটের আগে ৫ বলে ২টি ছক্কায় ১৫ রান করেন নাইম। খুলনার কামরুল ইসলাম ৩৫ রানে ২ উইকেট নেন।

১৯১ রানের বড় টার্গেটে খেলতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে খুলনা। ২৭ রানে ২ উইকেট হারায় তারা। ওপেনার তানজিদ হাসান ৯ ও রনি তালুকদার ৭ রান করেন। সপ্তম ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের আন্দ্রে ফ্লেচার মাথায় বলের আঘাতে মাঠ ছাড়েন।

মিডল-অর্ডারে ব্যাট হাতে রানের গতি বাড়িয়েছেন পিঞ্চ হিটার মাহেদি হাসান। তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি অধিনায়ক মুশফিক। ১৫ বলে ১১ রান করে ফিরেন মুশি। ২৪ বলে ৫টি চারে ৩০ রান করেন মাহেদি। ৭৬ রানের মধ্যে মাহেদি ও মুশফিকুরের বিদায়ের পর জুটি বাঁধেন ইয়াসির ও জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজা।

২৪ বলে দ্রুত ৪৩ রান যোগ করেন ইয়াসির ও রাজা। রাজাকে ২২ রানে থামিয়ে চট্টগ্রামকে ব্রেক-থ্রু এনে দেন রেজাউর। আর ১৯তম ওভারে ইয়াসিরকে তুলে নিয়ে চট্টগ্রামের জয়ের পথ সহজ করেন শরিফুল। ২৬ বলে ২টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৪০ রান করেন ইয়াসির। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৬৫ রানে থামে খুলনার ইনিংস। চট্টগ্রামের শরিফুল-মিরাজ-রাজা ২টি করে উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা হন হাওয়েল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :
চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স : ১৯০/৭, ২০ ওভার (হাওয়েল ৩৪, সাব্বির ৩০, কামরুল ২/৩৫)।
খুলনা টাইগার্স : ১৬৫/৯, ২০ ওভার (ইয়াসির ৪০, মাহেদি ৩০, রাজা ২/২০)।
ফল : চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ২৫ রানে জয়ী।
ম্যাচ সেরা : বেনি হাওয়েল (চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স)।