‘করোনায় মৃতদের মধ্যে ৮৫ শতাংশ টিকা নেননি, শনাক্তের ৮০ শতাংশই ওমিক্রন’

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:২৯ অপরাহ্ণ, ২৫/০১/২০২২

ফাইল ছবি

দেশে এখন যাদের করোনা শনাক্ত হ‌চ্ছে তা‌দের ৭০-৮০ ভাগই ওমিক্রনে আক্রান্ত বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, আক্রান্ত হয়ে যারা মারা যাচ্ছেন, তাদের ৮৫ শতাংশ টিকা নেননি।

মন্ত্রী বলেন, ডেলটা ভ্যারিয়েন্টকে আমরা জনগণ‌কে স‌ঙ্গে নি‌য়ে সফলতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছি। য‌দিও আমাদের অনেক ঘাটতি ছিল। পর্যাপ্ত অক্সিজেন ছিল না, শয্যা ছিল না, ডাক্তার-নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের অভিজ্ঞতা ও মনোবল কম ছিল। দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা করে আসায় সর্বস্তরে আমা‌দের মানুষজ‌নের আস্থা, সাহস বেড়ে গেছে। আমরা এখন যে কোনো ঢেউ মোকাবিলা করতে পারি, সে সক্ষমতা আমাদের আছে।

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক মালিকদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেন, ‘এরকম একটা পরিস্থিতির কারণে এক থেকে ৩২ শতাংশে উঠেছে সংক্রমণের হার। এটা খুবই আশঙ্কাজনক। সারাবিশ্বের সংক্রমণ বাড়ছে, বাড়ছে বাংলাদেশেও।’

মানুষের অতি আত্মবিশ্বাসের কারণে সংক্রমণ বাড়ছে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

এসময় দেশবাসীকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন অনুষ্ঠানে, বাসার বাইরে মানুষ সেভাবে মাস্ক পরে না। স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। ওমিক্রন মাইল্ড হওয়ায় আমরা যদি ইচ্ছামতো চলাফেরা করি তাহলে ক্ষতি হবে। আমাদের দেশ অনেক ভালো অবস্থায় আছে। আমাদের সমস্ত সূচকই ভালো আছে। আমরা যদি ফেল করি তাহলে সূচকগুলো ভালো থাকবে না।’

জাহিদ মালেক বলেন, ‘ওমিক্রন মাইল্ড হতে পারে কিন্তু তার সংক্রমণের ক্ষমতা অনেক বেশি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সংক্রমণ যখন বেশি হবে তখন মৃত্যু বেশি হবে।’

Nagad

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, করোনা রোগীদের চিকিৎসায় সরকারি হাসপাতাল প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘রাজধানীতে সরকারি যে হাসপাতাল আছে, সেগুলো ২৫ শতাংশ শয্যা ভরে গেছে। এভাবে সংক্রমণ বাড়তে থাকলে ধীরে ধীরে বেডের চাহিদা বাড়বে।’

সরকারের টিকাদান কর্মসূচির সাফল্য দাবি করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সংক্রমণ বাড়লে সেই হারে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা বাড়ছে না উল্লেখ করে জাহিদ মালেক বলেন, এটার কারণ হচ্ছে টিকা। অনেক মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে। ফলে হসপিটালাইজেশন কম হবে। আমাদের টার্গেটেড আরও তিন কোটি লোক টিকা নেওয়ার বাকি আছে। ট্রান্সপোর্ট, ইন্ডাস্ট্রি, কনস্ট্রাকশন সেক্টরে বাকি আছে। তারা এগিয়ে আসেনি নেওয়ার জন্য। তাদের কিভাবে টিকা দেওয়া যায় সে বিষয়ে আমরা বৈঠক করেছি।’