‘রাজনীতি মানেই কিন্তু এমপি-মন্ত্রী হওয়া নয়, আপনাকে জনগণের প্রতিনিধি হতে হবে’

শাহজালাল রোহান:শাহজালাল রোহান:
প্রকাশিত: ৪:০৭ অপরাহ্ণ, ২৫/০৪/২০২২

জীবনকে সফল করতে হলে মানুষকে অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়। সফলতার জন্য প্রথমেই প্রয়োজন দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি, সঠিক কর্ম পরিকল্পনা। ছাত্র-জীবন থেকে শুরু করে সব সময়ই বসে না থেকে পরিকল্পনা অনুসারে কাজ করতে হবে। আমি ছাত্র জীবন থেকেই একজন যোদ্ধা। রংপুরে পড়াশোনা করেছি; অনেক চ্যালেঞ্জ ছিলো, পড়াশোনায় গ্যাপ হয়েছে-আবার ফিলাপ করেছি, নিজেকে বারবার পরিবর্তন করেছি- এখন একটা পর্যায়ে এসে পৌঁছেছি বলে জানিয়েছেন তরুণ রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী মেজবাউদ্দীন মো: জীবন চৌধুরী।

তিনি বলেন, সব শেষ নর্থ সাউথ থেকে এমবিএ শেষ করেছি। বলতে পারেন-এখন সফল একজন ব্যবসায়ী। দেশের শীর্ষ ভ্যাট-ট্যাক্স নিয়ে কাজ করা কোম্পানি এখন -ট্যাক্সসেন্স লিমিটেড। যার ম্যানেজিং ডিরেক্টর-এর দায়িত্ব পালন করছি। এছাড়াও আহ্‌কাম এন্ড এসোসিয়েটস্‌ বিজনেস লিমিটেড-এর এমডি এন্ড সিইও হিসেবে কাজ করছি।

জীবনে বড় হতে হলে-অনেক চড়াই-উৎরাই থাকবে। যা ওভারকাম করে বেরিয়ে আসতে হবে। সব শেষ আমি এখন-জাতীয় পার্টির রাজনীতির সাথে জড়িত। এখানে আসার একটাই কারণ সাধারণ মানুষের জন্য, তাদের কণ্ঠস্বর হয়ে রাজনীতি করতে চাই। যেখানে এমপি-মন্ত্রী হতে নয়, জনগণের প্রতিনিধি হয়ে তাদের হয়ে কাজ করে যেতে চাই-বলেও জানান তিনি।

সম্প্রতি-রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এরিয়ায়- নিজের অফিসে সারাদিন ডট নিউজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই বলছিলেন মেজবাউদ্দীন মো: জীবন চৌধুরী। এসময় তিনি নিজের কোম্পানি, রাজনীতি, জাতীয় পার্টিতে যোগদান, নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিশদভাবে বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন-শাহজালাল রোহান;

সারাদিন ডট নিউজ: বলছিলেন, যোদ্ধা-বিষয়টি নিয়ে আরও জানতে চাই?

মেজবাউদ্দীন মো: জীবন চৌধুরী: ছাত্রজীবন থেকেই সংগ্রাম করে বড় হয়েছি। আমি নিজেকে একজন যোদ্ধা; বলেছি- তার প্রমাণ পাবেন। ছাত্র জীবনে বিয়ে করেছি এবং সন্তান নিয়ে পড়াশোনা শেষ করেছি। নিজের সন্তানদের নিয়ে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছি। এটা কত চ্যালেঞ্জিং আপনি হয়তো বুঝতে পারছেন। রংপুর গভমেন্ট কলেজ-থেকে এইচএসসি। ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে পাস করেছি। এরপর নর্থ-সাউথ থেকে এমবিএ করেছি। এখন পুরাদস্তুর ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ। এই পথচলা-মোটেও সহজ ছিলোনা। শুধু-এটুকু বলতে পারি পরিবর্তনের সাথে নিজেকে পরিবর্তন করতে হবে। পরিবর্তনের সাথে নিজের মানিয়ে না নিলে; আজ হয়তো এই পর্যায়ে আসতে পারতাম না।

Nagad

সারাদিন ডট নিউজ: দেশের যে কয়টি প্রতিষ্ঠান কর্পোরেট-ভ্যাট, ট্যাক্স-নিয়ে কাজ করে; তাদের মধ্যে শীর্ষ প্রতিষ্ঠান-ট্যাক্সসেন্স লিমিটেড। পাশাপাশি আপনি এখন রাজনীতিতে কেন?

মেজবাউদ্দীন মো: জীবন চৌধুরী: গ্রীক দার্শনিক এরিস্টটল বলেছিলেন, ‘সমাজে বৈষম্য, অবিচার যদি বেড়ে যায়, তাহলে ভীতু ও সেলফিশ ব্যতীত সবারই রাজনীতিতে আসা উচিত’। একটা কথা বলি, রাজনীতিবিদ মানে হচ্ছে জনগণের সেবক বা প্রতিনিধি। দেখেন; সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর কিন্তু সঠিক জায়গায় সব সময় পৌঁছতে পারেনা। তারা দেখা যাচ্ছে, কমন সমস্যা নিয়েই সবসময় ব্যস্ত থাকে। এই কণ্ঠস্বরকে-সঠিক জায়গায় পৌঁছাতেই রাজনীতি করা উচিত। আমিও তাই করেছি। তবে, সাধারণ মানুষের চাওয়া- রাষ্ট্র তার মৌলিক চাহিদাগুলো নিশ্চিত করবে, রাষ্ট্র নিরাপত্তা নিবে, ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরি করে দিবে। এই সাধারণ মানুষের স্বপ্নগুলো প্রয়োজন করার জন্যই অসাধারণ মানুষের প্রয়োজন। এজন্য আমার কাছে সবচেয়ে ভালো প্ল্যাটফর্ম মনে হচ্ছে- রাজনীতি। এর মাধ্যমেই সঠিক জায়গায় সঠিক ভয়েসটা পৌঁছানো সম্ভব। আমি এ কারণেই রাজনীতিতে এসেছি।

সারাদিন ডট নিউজ: অনেক রাজনৈতিক দল থাকতেও আপনি জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে কেন?

মেজবাউদ্দীন মো: জীবন চৌধুরী: কথাটা যদি আমি এভাবে বলি, আপনি যদি ক্রিকেট খেলেন তাহলে তো আপনার মাঠ দরকার, না হলে আপনি খেলবেন কোথায়? অর্থাৎ রাজনীতি করার জন্য একটা প্লাটফর্ম দরকার। আমার কাছে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ-সাহেব খুব পছন্দের। তিনি খুব ভিশনারি লিডার ছিলেন। সে কিন্তু অনেক আগেই চিন্তা করেছিল আমাদের দেশে ৬৮ হাজার গ্রাম বাঁচলে-বাংলাদেশ বাঁচবে। এখন দেখেন তাই করা হচ্ছে, যেগুলো তিনি অনেক আগেই বুঝেছিলেন। এছাড়াও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের-যার নেতৃত্ব দেওয়ার অসাধারণ গুন রয়েছে এবং তার অনুপ্রেরণার কারণেই আজ জাতীয় পার্টির রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়েছি।

সারাদিন ডট নিউজ: আপনিতো চলতি বছরেই রাজনীতিতে এসেছেন ‌। কোন দায়িত্বে রয়েছেন?

মেজবাউদ্দীন মো: জীবন চৌধুরী: আমি বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছি। কোন পদ-পজিশনের কারণে নয়। আমি রাজনীতিবিদ হতে চাই; অন্য কিছু নয়। এর মানেই এই নয় যে; আমাকে এমপি-মন্ত্রী হতে হবে। হওয়ার আশা আমার নেই। তবে হ্যাঁ যাদের জন্য রাজনীতি করা হয়, তারা যদি চায় তখন ভিন্ন কথা। আমাদের দেশে কিন্তু এখন রাজনীতির সংজ্ঞা চেঞ্জ হয়ে গেছে। এখন রাজনীতি মানেই কিন্তু এমপি মন্ত্রী নয়। দেখেন সংসদে ৩০০ জনের মতো এমপি রয়েছেন। আমরা কয়জনের নাম জানি, আমরা কি আব্দুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু, মতিয়া চৌধুরী, এহসানুল হক মিলন প্রমুখ-এরকম নামকরা রাজনীতিবিদ কয়জন পেয়েছি। আমাদের তো রাজনীতিবিদ দরকার। আমার রাজনীতির একটাই লক্ষ্য, মানুষের হৃদয়ের সারা জীবন থাকে এজন্যই আমি রাজনীতি করবো। সাধারণ মানুষ বলবে যে, একজন মানুষ এসেছিলেন রাজনীতি করেছে-আমাদের সাধারণ মানুষের জন্য, তরুণদের জন্য এবং একজন ভালো মানুষ ছিলেন। এটাই আমার চাওয়া। আমি মানুষের হৃদয় জয় করতে কাজ করতে চাই।

কথা বলছেন মেজবাউদ্দীন মো: জীবন চৌধুরী।

সারাদিন ডট নিউজ: বলছিলেন তরুণদের কথা; তারাতো রাজনীতি নিয়ে অনেকে হতাশ! কারণ কি বলে মনে করেন?

মেজবাউদ্দীন মো: জীবন চৌধুরী: দেখেন এই দেশে তরুণদের দিয়েই সব আন্দোলন সংগ্রামের শুরু হয়েছিলো। ভাষা আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল তরুণদের দারা। তাঁরা ১৪৪- ধারা ভাঙ্গা সহ এই তরুণ প্রজন্মই কিন্তু সেদিন ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তরুণ প্রজন্মের ইতিহাস তৈরি করার ক্যাপাবিলিটি আছে। তাদের চিন্তা, চেতনা, ভাবনাগুলো অত্যন্ত সহজ থাকে। তরুণদের স্বপ্নগুলোও কিন্তু খুব সাধারণ থাকে। এই স্বপ্নগুলো আমাদের লালন করতে হবে’ তাদের স্বপ্ন-লালন-পালনের সুযোগ করে দিতে হবে-এজন্যই রাজনীতিতে সৎ যোগ্য তরুণ নেতৃত্ব আসা উচিত। আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য। এখন তরুণরা রাজনীতিতে আসতে চায় না।

এ বিষয়ে আমি মনে করি রাজনীতি-হচ্ছে এমন একটি হাতিয়ার যা দিয়ে আপনি জাতি গঠন করতে পারেন জাতিকে ধ্বংস করে দিতে পারেন। হয়তো অনেকেই আমার সাথে একমত হবে না, আমি দেখছি, একসময় তরুণ প্রজন্মের আইকন থাকতো, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মাওলানা ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী প্রমুখ; তারা জনগণের জন্য নিজের জীবনকে বিলিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু এখন দেখেন আইকন পরিবর্তন হয়েছে; এখন আইকন চমক দেশের নায়ক অমুক-তমুক। এ কারণে অনেকেই মনে মনে রাজনীতি থেকে থেকে দূরে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। তাদের যে একটা গুরুত্ব আছে, গুরু দায়িত্ব আছে-এটা তারা ভুলে যায়। তবে এই ট্রেন্ড চেঞ্জ হবে। সব সময় একটা ট্রেন্ড চলে; আবার পরিবর্তন হয়। আমি মনে করি তরুণদের এই মানষিকতার পরিবর্তন আসবে।

সারাদিন ডট নিউজ: আপনার বর্তমান পেশা সম্পর্কে একটু জানতে চাই?

মেজবাউদ্দীন মো: জীবন চৌধুরী: আমি বর্তমানে বাংলাদেশ আই হসপিটাল লিমিটেড-এর কর্পোটেড অ্যাডভাইজর হিসেবে হিসেবে আছি। । এছাড়াও আমাদের ট্যাক্সসেন্স লিমিটেড-এর মাধ্যমে আমরা ইন্টারনাল অডিট করছি। আমরা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি (এসএমই)-দের অ্যাকাউন্টিং সার্ভিস দিচ্ছি। এছাড়াও কপোর্টরেট ট্যাক্স, এবং ইনডিভিজুয়াল ট্যাক্স নিয়েও কাজ করছে ট্যাক্সসেন্স।

সারাদিন ডট নিউজ: ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?

মেজবাউদ্দীন মো: জীবন চৌধুরী: আমাদের কোম্পানিকে বিশ্বমানের কোম্পানিতে রুপান্তিত করতে চাই। সেই লক্ষ্যেই এক ঝাঁক তরুণদের নিয়ে আমরা কাজ করছি। যে যে ক্ষেত্রে দক্ষ তেমন কর্মীদের আমাদের কোম্পানিতে নিয়োগ নেওয়া হয়। এভাবেই এগিয়ে যাচ্ছি। আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের ক্লাইন্টের সংখ্যাও অনেক। এছাড়াও মাল্টি ন্যাশনাল ব্র্যান্ড-ক্যাপিএমজি, ডেলোইট-এদের মতো নিজের দেশীয় কোম্পানিকে আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তর করতে চাই। দেশে বৈষম্য থাকবে না, এক দেশ, এক জাতি, এক লক্ষ্য-নয় বৈষ্যম্য, নয় বিভাজন-এটাই আমার রাজীনতির লক্ষ্য ও উদ্যেশ্য।

সারাদিন ডট নিউজ: আপনাকে ধন্যবাদ।
মেজবাউদ্দীন মো: জীবন চৌধুরী: আপনাদেরকেও ধন্যবাদ। পাঠকদের জন্যও রইলো শুভেচ্ছা।

সারাদিন.২৫ এপ্রিল. এসআর