১৪ বছর কনডেম সেলে থাকা দুই ফাঁসির আসামিকে খালাস

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:৪৯ অপরাহ্ণ, ২৩/০৬/২০২২

১৪ বছর ধরে কনডেম সেলে থাকা দুই মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ইসমাঈল হোসেন বাবু ও সোনাদিকে খালাস দিয়েছেন আপিল বিভাগ। একই সাথে আরেক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি তরিকুল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সেইসাথে তাদের দ্রুত কনডেম সেল থেকে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।

জানা গেছে, ২০০৬ সালের ২০ অক্টোবর ইফতারের পর রাজশাহীর গৌদাগাড়ীর ধুয়াপাড়া যৌবন গ্রামের সৌদি প্রবাসী মো: বজলুর রহমানের স্ত্রী মিলিয়ারা খাতুন ওরফে রোকসানা ওরফে মিলু (৩০) এবং তার মেয়ে পারভীন ওরফে সাবনুরকে (৯) গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরদিন মিলুর বাবা রফিকুল ইসলাম মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মিলির মাথা গোয়ালঘরে এবং সাবনুরের মাথা টয়লেটে পাওয়া যায়।

দুই বছর পর এই মামলার বিচার শেষে ২০০৮ সালের ২৩ জুলাই রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মেসবাউদ্দৌলা রায় দেন। রায়ে ধুয়াপাড়া যৌবন লাইনপাড়ার সোনাদ্দি ওরফে সোনারুদ্দি, ইসমাইল হোসেন বাবু, তরিকুল ইসলাম ভুতা এবং মো: মোক্তারকে (পলাতক) মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। সেই থেকে তিন আসামি কনডেম সেলে রয়েছেন।

এরপর নিয়ম অনুসারে মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি তিন আসামি হাইকোর্টে আপিল করেন।

Nagad

২০১৪ সালের ১৩ মার্চ বিচারপতি শহিদুল ইসলাম ও বিচারপতি আব্দুর রবের হাইকোর্ট বেঞ্চ আবারও রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আপিল খারিজ করে চার আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন করা হয়। এরপর কারাবন্দি তিন আসামি আপিল বিভাগে আপিল করেন। তবে পলাতক থাকায় মোক্তার আপিল করেননি।

ওই আপিলগুলোর শুনানি শেষে আজ (২৩ জুন) বৃহস্পতিবার রায় দেয় আপিল বিভাগ।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ। আসামি ইসমাইলের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন এস এম শাহজাহান। সোনারুদ্দির পক্ষে ছিলেন হেলাল উদ্দিন মোল্লা। আর তরিকুলের পক্ষে ছিলেন এস এম বকস কল্লোল।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ বলেন, “শুধু তরিকুলের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ছিল। তাই তার আপিল খারিজ এবং দীর্ঘদিন কনডেম সেলে থাকার বিষয়টি বিবেচনায় তার দণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছে আদালত।”

সারাদিন/২৩ জুন/এমবি