পদ্মা সেতুর উদ্বোধন: খুশি বিশ্বব্যাংক

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৪৯ অপরাহ্ণ, ২৫/০৬/২০২২

বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য নিয়োজিত বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি মিয়াং টেম্বন বলেছেন, পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে বিশ্বব্যাংক খুশি।

আজ শনিবার (২৫জুন) সকালে মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতু উদ্বোধন অনুষ্ঠান চলার পাশাপাশি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আমরা খুশি যে সেতুটি সম্পূর্ণ হয়েছে। এই সেতুর মাধ্যমে বাংলাদেশ উপকৃত হতে যাচ্ছে বলে আমরা আনন্দিত’।

টেম্বন বলেন, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের অন্যতম বড় উন্নয়ন সহযোগী। আমরা এই সেতুর গুরুত্ব স্বীকার করি। তিনি বলেন, সেতুটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ভ্রমণ সময় কমিয়ে বাংলাদেশের জনগণের জন্য অর্থনৈতিক সুবিধা বয়ে আনবে। বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর বলেন, সেতুটি বাজার সম্প্রসারণ ও দারিদ্র্য হ্রাস করে দেশের মানুষের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি বাড়াতে সহায়তা করবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অংশীদার হিসেবে আমরা এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পাশে আছি।

২০১২ সালে বিশ্বব্যাংক পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের জন্য তাদের ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ বাতিল করে দাবি করে যে এতে বাংলাদেশী কর্মকর্তা, কানাডিয়ান ফার্মের নির্বাহী এবং অন্যান্য ব্যক্তির দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের প্রমাণ রয়েছে।

পরে কানাডার একটি আদালত এই প্রকল্পে কোনো দুর্নীতি খুঁজে পায়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ পদ্মা সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন ।

প্রসঙ্গত, ২০০১ সালের ৪ জুলাই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার পর ২০১২ সালের ২৯ জুন অর্থায়ন বাতিল করে বিশ্বব্যাংক। ২০১২ সালের ৯ জুলাই নিজের টাকায় নির্মাণের ঘোষণা দেয় সরকার। ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর মূল সেতুর নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

Nagad

ঢাকা থেকে ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে সেতুর অবস্থান। মাওয়া ও জাজিরা উপজেলা দুটিকে সংযুক্ত করেছে সেতুটি। এ দুই অঞ্চলের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগব্যবস্থা একান্ত প্রয়োজন ছিল। তাই দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ১৯টি জেলাকে উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করতে কোটি জনতার সময়ের দাবি ছিল পদ্মার দুপারের সেতুবন্ধ। এতে করে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল থেকে ঢাকার দূরত্ব ১০০ কিলোমিটার কমল। ঢাকা ও বেনাপোল স্থলবন্দর, মোংলা সমুদ্রবন্দর এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের জেলাগুলোর সঙ্গে ঢাকার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হলো। পদ্মা সেতুতে রেললাইন থাকায় ট্রান্স-এশিয়ান রেল নেটওয়ার্ক এবং ঢাকা ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্থাপিত হবে।

পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার। দ্বিতল এই সেতুর এক অংশ পদ্মা নদীর মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্ত এবং অপর অংশ নদীর শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে যুক্ত। একই সঙ্গে ট্রেন ও গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা রয়েছে এ সেতুতে।

চার লেন বিশিষ্ট ৭২ ফুট প্রস্থের এ সেতুর নিচতলায় রয়েছে রেললাইন। এর মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্থাপিত হবে। পদ্মা সেতু নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা।