পার্বত্য সমস্যা সমাধানে চুক্তির বিকল্প নেই: সন্তু লারমা

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:৪০ অপরাহ্ণ, ০১/১২/২০১৯

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়ন ছাড়া পার্বত্য সমস্যা সমাধানের আর কোনো বিকল্প নেই।

রোববার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি সইয়ের ২২ বছর উপলক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

সন্তু লারমা বলেন, জনসংহতি সমিতির তথা জুম্ম জনগোষ্ঠীর মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। তাদের পেছনে যাওয়ার আর কোনো পথ নেই। জুম্ম জনগণ ২২ বছর ধরে চুক্তি বাস্তবায়নের অপেক্ষা করেছে। তারা সরকারকে অনেক সময় দিয়েছে। সব ক্ষেত্রেই তারা দুর্বলতার পশ্চাৎপদ। কিন্তু তাই বলে তারা অবহেলা কিংবা উপেক্ষার পাত্র হতে পারে না।

তিনি বলেন, জুম্ম জনগণ অধিকার ও মুক্তিকামী। আর এটাই তাদের একমাত্র সম্বল। এমন ক্রান্তিকালীন পরিস্থিতিতে পার্বত্য অঞ্চলের জুম্ম জনগণ তাদের জাতীয় অস্তিত্ব ও জন্মভূমির অস্তিত্ব সংরক্ষণে বদ্ধপরিকর। তারা মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে চায়। তাই পার্বত্য অঞ্চলে বিরাজমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তারা নিজেদের করণীয় নিয়ে আজ গভীরভাবে ভাবতে বাধ্য হচ্ছে।

তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি সইয়ের পর ২২ বছর অতিক্রান্ত হলেও সরকার চুক্তির মৌলিক গুরুত্বপূর্ন বিষয়গুলো অবাস্তবায়িত অবস্থায় রেখে দিয়েছে। বলাবাহুল্য পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি যখন সই হয়েছিল, তখনও এই সরকারই ক্ষমতায় ছিল।

তিনি আরো বলেন, সেই আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার বর্তমানে একনাগাড়ে ১১ বছর ধরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকলেও চুক্তিগুলো বাস্তবায়নে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। পক্ষান্তরে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিসহ জুম্ম জাতিগুলোর জাতীয় অস্তিত্ব চিরতরে বিলুপ্তির ষড়যন্ত্র অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাচ্ছে।

Nagad

সন্তু লারমা বলেন, বর্তমান সরকার এই চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়নে এগিয়ে না আসায় পার্বত্যবাসীর মধ্যে চরম হতাশা, অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক ড. মেসবাহ কামাল, ঢাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক উ উইন মং জলি প্রমুখ।

সারাদিন/১ডিসেম্বর/