কুয়াকাটায় ২০শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের ভগ্নদশা, সেবা বঞ্চিত দুই লাখ মানুষ

দেশের বৃহৎ পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা সৈকত লাগোয়া কুয়াকাটা ২০শয্যা হাসপাতালটি দুই লক্ষ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু জনবলসহ নানা সংকটের কারণে ২০শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটি কোনোই কাজে আসছে না। চালু হওয়ার পর প্রায় এক যুগ পার হয়ে গেলেও প্রয়োজনীয় সেবা কার্যক্রম না থাকায় হাসপাতালটির নামই ভুলতে বসেছে সাগরপাড়ের মানুষ। চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কারণে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে কুয়াকাটা ২০শয্যা হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম।

কুয়াকাটা হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিতে এ হাসপাতালটিকে ২০শয্যায় উন্নীত করা হয়। গর্ভবতী সেবা, স্বাভাবিক প্রসব সেবাসহ বিভিন্ন সেবার কথা উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে এর কিছুই নেই। নামের পাশে ‘শয্যা’ শব্দটি থাকলেও হাসপাতালটিতে বর্তমানে প্রাথমিক চিকিৎসা ছাড়া অন্য কোনও সেবা দেয়া হয় না। নেই কোন পর্যাপ্ত ওষুধের বরাদ্ধ। ফলে শুধু অবকাঠামো হিসেবেই টিকে আছে জনগুরুত্বপুর্ন এ হাসপাতালটি।

হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা যায়, হাসপাতালের শূন্য পদগুলো হলো- জুনিয়র কনসালটেন্ট(সার্জারি), জুনিয়র কনসালটেন্ট মেডিসিন), জুনিয়র কনসালটেন্ট(গাইনি এন্ড অবস), জুনিয়র কনসালটেন্ট (এ্যানেস), আবাসিক মেডিকেল অফিসার, মেডিকেল অফিসার, মেডিকেল টেক:(ল্যাব:), ফার্মাসিস্ট, সিনিয়র স্টাপ নার্স, প্রধান অফিস সহকারী কাম হিসাব রক্ষক, অফিস সহকারী কাম হিসাব মুদ্রাক্ষরিক ডাটা এন্টি অপারেটর, ওয়ার্ড বয়, ল্যাব এ্যাটেনডেন্ড, আয়া-দারোয়ান, কুক, এম এল এস, এস, ঝাড়–দার।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোগীরা জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালের ইনডোর ও আউটডোর চিকিৎসা সেবা না পেয়ে তাদের ২২কিলোমিটার সড়ক পাড়ি দিয়ে কলাপাড়া উপজেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে ঔষধ পাচ্ছেনা। এরফলে সব চেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন গর্ভবতী মা ও শিশুরা। এছাড়া কুয়াকাটা বঙ্গোপসাগরের মাছধরার জেলেরা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদেরও সেই ২২ কিলোমিটার সড়ক পাড়ি দিয়ে কলাপাড় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। একইভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে অন্য স্থানে বদলি হয়ে চলে যান। রোগীদের আলট্রাসনোগ্রাম, এক্সরে, রক্ত পরীক্ষা বাহির থেকেই করতে হয়। গর্ভবতী মায়েরা নিয়মিত চিকিৎসা সেবা না পেয়ে সন্তান জন্মদানের সময় নানা জটিলতায় মারা যায় অনেক মা ও নবজাতক। এছাড়াও হাসপাতালে বৈদ্যুতিক পাখা থাকলে ও তা ঘুরছে না। নেই পর্যাপ্ত আলোর বাতি। বিদ্যুৎ চলে গেলে থাকে না কোন আলোর ব্যবস্থা, অন্ধকারই থাকে অনেক কক্ষ।

খাজুরা গ্রামের শাহিদা পারভীন বলেন, গর্ভবতী মায়েরা এ হাসপাতালে ঠিকমতো কোন সেবা পাচ্ছে না। জুনিয়র কনসালটেন্ট(গাইনি এন্ড অবস) পদ থাকলে ও প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ নামে কোন ডাক্তার আসেনি এ হাসপাতালে । গর্ভবতীদের সমস্যা গুলো দেখানোর জন্য ২২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কলাপাড়া সদরে গাইনি চিকিৎসক দেখাতে যেতে হয়।

কুয়াকাটা হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ডা. রিজভী অঅহমেদ বলেন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার থাকলে আমাদের খুব ভাল হতো তিনি সর্বদা দেখা শুনা করতেন। হাসপাতালের অনেকগুলো পদ খালি রয়েছে। এ পদগুলো পূরণ হলে এ হাসপাতাল থেকে এ অ লের মানুষরা পুরোপুরি চিকিৎসা সেবা পেত।

Nagad

কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিন্ময় হাওলাদার বলেন, বর্তমানে ওই হাসপাতালে ২ জন ডাক্তার আছে। যে পদগুলো খালি রয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষে এ বিষয় বারবার জানানো হয়েছে। কয়েক মাস আগে ওই হাসপাতালে ডাক্তার ছিল মাত্র একজন। তাই সেসময় কখনো কখনো কলাপাড়া হাসপাতাল থেকে ডাক্তার পাঠানো হতো।

পটুয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস এম কবির হাসান বলেন, কুয়াকাটা হাসপাতালে অনেকগুলো পদ ফাঁকা। এবিষয় জনবলে খাটতি রয়েছে এগুলো পূরণ হলো হাসপাতালটি খুব ভালোভাবে চলতো। যে পদগুলো খালি রয়েছে তা আমি মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অবগত করা হয়েছে। হাসপাতালটি এখন পর্যন্ত কোড নম্বর পড়েনি। এজন্য সরকারি সহায়তা ও পর্যাপ্ত ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না।