সিরিজ হারল বাংলাদেশ

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৪৪ অপরাহ্ণ, ০২/০৮/২০২২

ঘরে-বাইরে এবার নিয়ে টি-টোয়েন্টি সপ্তম সিরিজে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। আগের ৬ বার একচ্ছত্র শাসন ছিল টাইগারদেরই। কিন্তু সপ্তমবার এসে আর সিরিজটা নিজেদের কাছে রেখে দিতে পারলো না বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পর এবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পরাজয় বরণ করল টাইগাররা। তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ১০ রানে হেরে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খুইয়েছে বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার (২ আগস্ট) হারারে স্পোর্টস ক্লাবে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টায় ম্যাচটি শুরু হয়। জিম্বাবুয়ে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৬ রান করেছে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪৬ রানে থামে বাংলাদেশ

জিম্বাবুয়ের দেওয়া ১৫৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে পাওয়ার প্লেতে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

১৫৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামার পর একটা বড় জুটি অন্তত প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু কোনো একটি বড় জুটি গড়ে ওঠেনি। প্রতিষ্ঠিত ব্যাটারদের কেউই দাঁড়াতে পারলেন না জিম্বাবুয়ে বোলারদের সামনে। বরং নিয়মিত বিরতিতে একের পর এক উইকেট হারিয়েছে তারা।

বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং লাইনটা বেশ বড়। লিটন দাস, পারভেজ হোসেন ইমন, এনামুল হক বিজয় এবং নাজমুল হোসেন শান্ত, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, আফিফ হোসেন ধ্রুব, মোসাদ্দেক হোসেন, মাহদি হাসান- কত বড় বড় ব্যাটার! কিন্তু আফিফ ছাড়া এদের কেউই জিম্বাবুয়ে বোলারদের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারলো না।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ের নামে জিম্বাবুয়ে। নিজেদের ইনিংসে দলীয় ২৯ রানে প্রথম উইকেট হারায়। নাসুম আহমেদের বলে ওপেনার রেগিস চাকাভা (১৭) শর্টে থাকা আফিফ হোসের কাছে ক্যাচ তুলে দেন। এরপর স্পিনার মেহেদী হাসান নিজের দ্বিতীয় ওভারে এসে জোড়া আঘাত করেন। ওয়েসলি মাধেভেরেকে বোল্ড করার পর ফর্মে থাকা সিকান্দার রাজাকে শূন্য রানে ফেরান।

Nagad

অভিজ্ঞ ব্যাটার শন উইলিয়ামসকে দাঁড়াতে দেননি মোসাদ্দেক হোসেন। বাংলাদেশ অধিনায়ক তাকে ব্যক্তিগত ২ রানে শান্তর ক্যাচে ফেরান। এরপর বোলিংয়ে এসে নিজের প্রথম বলেই ওপেনার ক্রেইগ আরভিনকে আউট করেন মাহমুদউল্লাহ। ২৭ বলে ২৪ রান করা স্বাগতিক অধিনায়ক উইকেটরক্ষক আনামুল হকের স্টাম্পিংয়ের শিকার হন।

১৩তম ওভারের শেষ বলে মিল্টন শাম্বাকে ফেরান মোস্তাফিজুর রহমান। তবে ১৫তম ওভারে নাসুমের বলে ঝড় তোলেন রায়ান বার্ল। তিনি একাই ৩৪ রান তোলে। ৫টি ছক্কা ও একটি চার হাঁকান। ওভারের পঞ্চম বলটি চারের বদলে ছক্কা হলে যুবরাজ সিংয়ে এক ওভারে ছয় ছক্কার রেকর্ড গড়তে পারতেন।

সপ্তম উইকেট জুটিতে ৩১ বলে ৭৯ রানের পার্টনারশি গড়ে দলীয় সংগ্রহ বাড়ান বার্ল ও লুক জংওয়ে। অবশেষে এই জুটির দুই ব্যাটারকেই ফেরান হাসান মাহমুদ। ২০ বলে ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩৫ রান করা জংওয়েকে মোসাদ্দেকের কাছে ক্যাচ দেন। পরে ব্যক্তিগত ৫৪ রানে লিটন দাসের ক্যাচে আউট হন বার্ল। ২৮ বলে ২টি চার ও ৬টি ছক্কা হাঁকান তিনি।

এর আগে প্রথমবার অধিনায়ক হয়ে টস হারলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিন।

এ ম্যাচে অভিষেক হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাটার পারভেজ হোসেন ইমনের। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের ক্যাপ পাওয়া ৭৬তম ক্রিকেটার হচ্ছেন তিনি।

বাংলাদেশ দলে তিনটি পরিবর্তন হয়েছে। ওপেনার মুনিম শাহরিয়ারের পরিবর্তে একাদশে ইমন এসেছেন। এছাড়া মাহমুদউল্লাহ ও নাসুম আহমেদ খেলবেন নুরুল হাসান সোহান ও শরীফুল ইসলামের পরিবর্তে।

বাংলাদেশ একাদশ: লিটন দাস, আনামুল হক (উইকেটরক্ষক), পারভেজ হোসেন ইমন, আফিফ হোসেন, মাহমুদউল্লাহ, নাজমুল হোসেন শান্ত, মোসাদ্দেক হোসেন (অধিনায়ক), মেহেদী হাসান, মোস্তাফিজুর রহমান, নাসুম আহমেদ, হাসান মাহমুদ।

জিম্বাবুয়ে একাদশ: রেগিস চাকাবভা (উইকেটরক্ষক), ক্রেইগ আরভিন (অধিনায়ক), ওয়েসলি মাধেভেরে, সিকান্দার রাজা, শন উইলিয়ামস, ব্র্যাড ইভান্স, মিল্টন শাম্বা, রায়ান বার্ল, লুক জংওয়ে, ভিক্টর নিয়াউচি, জন মাসারা।