নারায়ণগঞ্জে অস্ত্র মামলায় সেই নূর হোসেনের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক:নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: ৪:০০ অপরাহ্ণ, ০৪/০৮/২০২২

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন হত্যা মামলার ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নূর হোসেনকে অস্ত্র মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক সাবিনা ইয়াসমিন আজ বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টায় নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (দ্বিতীয়) সাবিনা ইয়াসমিনের আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। একই আদালতে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আরও দুটি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। রায় ঘোষণা ও শুনানিকালে নূর হোসেন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. সালাহ উদ্দীন সুইট জানান, চারজন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেছেন।

নারায়ণগঞ্জ আদালতের অতিরিক্ত কৌঁসুলি (এপিপি) সালাহ উদ্দিন সুইট বলেন, ২০১৪ সালের অস্ত্র আইনের একটি মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত নূর হোসেনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। এ ছাড়া আরও একটি অস্ত্র মামলায় তিনজন ও একটি মাদক মামলায় একজনের সাক্ষ্য নিয়েছেন। মামলা দুটির পরবর্তী শুনানির জন্য আদালত আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান বলেন, ২০১৪ সালের ১৪ মে সিদ্ধিরগঞ্জে নূর হোসেনের বাসা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ৮ রাউন্ড গুলি ও ৮ রাউন্ড শাটগানের কার্তুজ জব্দ করা হয়। পরের দিন পুলিশ বাদী হয়ে নূর হোসেনকে একমাত্র আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করে।

নূর হোসেনের বিরুদ্ধে তিনটি অস্ত্র মামলা ছিল। এর মধ্যে দুটি মামলায় সাজা হলো বলেও জানান আসাদুজ্জামান।

Nagad

তিনি আরও বলেন, রায় ঘোষণার আগে তাকে কড়া নিরাপত্তায় কাশিমপুর কারাগার থেকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে আনা হয়। বিচারকি কার্যক্রম শেষে তাকে আবার কড়া নিরাপত্তায় কাশিমপুর কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাত জন অপহৃত হন। ৩০ ও ৩১ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তাঁদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশগুলোর পায়ে ইটবোঝাই সিমেন্টের ব্যাগ বেঁধে নদীতে ডোবানো হলেও সেগুলো ভেসে উঠেছিল। হাত পেছনে দড়ি দিয়ে বাধা ছিল।

আলোচিত এ ঘটনার মামলায় জেলা ও দায়রা জজ আদালত নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। এ মামলা এখন উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগে রয়েছে।