ডলার সঙ্কট : অপসারণসহ ৬ ব্যাংকের ট্রেজারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯ আগস্ট ২০২২, ৪:৫৫ অপরাহ্ণ

ডলার ‘কারসাজির’ সঙ্গে জড়িত ছয় ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই দেশি-বিদেশি ছয় ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের প্রধানকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক পদের কর্মকর্তাও রয়েছেন। ডলারের বাজার অস্থিতিশীল করে অতিরিক্ত মুনাফা করায় তাদের বিরুদ্ধে এ নির্দেশ দেওয়া হলো।

সোমবার (৮ আগস্ট) এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, যারা খোলা বাজারে ডলারের অবৈধ ব্যবসা করছে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। এখন পর্যন্ত পাঁচটি মানি এক্সচেঞ্জের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপা‌শি ৪৫টি‌কে কারণ দর্শাতে বলা হ‌য়ে‌ছে। শোকজের পাশাপাশি আরও নয়টি প্রতিষ্ঠানকে সিলগালা করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানগুলো লাইসেন্স না নিয়েই ব্যবসা করে আসছিল।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে ব্যাংকের মতো খোলাবাজারেও ডলারের সংকট দেখা দিয়েছে, চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত ডলার নেই। প্রবাসী আয় কমেছে, বিদেশি পর্যটকও কম আসছেন। এসব কারণে বাজারে ডলারের সরবরাহ কমে গেছে।

এদিকে শীর্ষ পর্যায়ের এতগুলো ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের একসঙ্গে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম। এর আগে ২০০২ সালে পাঁচ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) অপসারণ করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ওম প্রকাশ আগরওয়াল নামের এক ব্যবসায়ী জালিয়াতির মাধ্যমে ৫টি ব্যাংক থেকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। ওই ঘটনায় তাদের অপসারণ করা হয়।

ট্রেজারি বিভাগ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের টাকা ও ডলারের দৈনন্দিন জোগান ও চাহিদার বিষয়টি নিশ্চিত করে থাকে। সম্প্রতি ডলারের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো পরিদর্শনে গিয়ে ডলার কেনাবেচার তথ্য পর্যালোচনা করে। এরপর প্রতিবেদন দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলছে, গত মে মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা করেছে ওই ছয় ব্যাংক। ফলে ডলার বাজারক আরও অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। এজন্য তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে সোমবার ২৫ পয়সা বাড়িয়ে আন্তঃব্যাংকে ৯৪ টাকা ৯৫ পয়সা ডলারের নতুন দাম বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এদিন ১৩৯ মিলিয়ন ডলার যা প্রায় ১৪ কোটি ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এছাড়া খোলাবাজারে ডলারের দাম উঠেছে ১১৫ টাকা, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দাম। এর আগে গত ২৭ জুলাই খোলাবাজারে দর উঠেছিল ১১২ টাকা।

প্রসঙ্গত, কোভিড পরবর্তী আমদানি বাড়া ও রেমিট্যান্স কমে যাওয়ায় বেশ বিপাকে দেশের আর্থিক খাতগুলো। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ আরও কঠিন করেছে পরিস্থিতি। বর্তমানে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানিতে সরবরাহ খরচ বেড়েছে। এতে তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে ডলারের। বাজার স্বাভাবিক রাখতে রিজার্ভ থেকে ডলার ছাড়ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে কমতে শুরু করেছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ।