বিলুপ্তির পথে বাড়ির দরজার কাচারি ঘর!

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২ আগস্ট ২০২২, ২:০০ পূর্বাহ্ণ

বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলার বিগত দিনে অনেক বাড়ির দরজায় দেখা যেতো কাচারি ঘর। আর্থিক অবস্থা একটু ভালো হলেই বাড়ির সামনে দরজায় (বাড়িতে ডোকার সদর) বানানো হতে এই কাচারি ঘর। প্রতিদিন সকাল বেলা প্রতিবাড়ির এসব কাচারি ঘরগুলোতে ধর্মীয় শিক্ষার আয়োজন করা হতো। বিশেষ করে কুরআন, হাদিস, মাছআলা-মাছায়েল ও মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ইসলামী শিক্ষার এক অনন্য ভূমিকা পালন করা হতো কাচারি ঘরে। এসব কাচারি ঘরগুলো মক্তব হিসেবেও ব্যবহার করা হতো-এখন বিলুপ্তির পথে এসব কাচারি ঘর।

একজন আলেম বা মাদরাসার ছাত্র রাখা হতো-এসব ঘরে। তিনি ৫ ওয়াক্ত নামাজের সময় আযান দেওয়া আশেপাশের মানুষদের ডেকে নামাজ আদায় করানো সহ বাড়ির নারী, পুরুষ ও শিশুদেরকে ইসলামী নিয়ম নীতি ও রীতিনীতি পালনে উদ্বুদ্ধ করতেন। এইসব কাচারি যুক্ত বাড়ির আশেপাশে কোমলমতি শিশুদেরকে সকাল সন্ধ্যা লেখাপড়া শিখানো হতো এই কাচারি ঘরে। বাড়ির দরজার মক্তবগুলোতে আদব কায়দা, কোরআন ও নামাজ শিক্ষাসহ ধর্মীয় এবং নৈতিক শিক্ষার মূল কেন্দ্র হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিলো। যা প্রায় বাড়িতেই দেখা যেতো।

কালের বিবর্তনে এখন বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই সংস্কৃতি নেই বললেই চলে। তখনকার সময় প্রত্যেক কাচারি ঘরগুলোতে লজিং মাষ্টার বা একজন আলেম থাকতো। আবার দূর থেকে এসেও শিক্ষকরা বাড়ির ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া শিখানোর পাশাপাশি বাড়িতে মেহমান আসলে বিশ্রামের জন্য প্রাথমিকভাবে কাচারি ঘরে অবস্থান করতো। সালিশ বৈঠক, রাতভর আনন্দ ফুর্তি হতো এই কাচারি ঘরে। বাস্তবতা হলো এখন আর এসব দেখা যায় না। একদম বিলুপ্তির পথে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী কাচারি ঘরগুলো।

আবার কিছু কিছু বাড়িতে আগের কিছু মক্তব বা কাচারি ঘর থাকলেও বর্তমানে তা জরাজীর্ণ হয়ে অবহেলিতভাবে পড়ে আছে। এইসব কাচারি ঘরগুলো দেখলেই সেই পুরনো স্মৃতি মনে পড়ে। বর্তমানে ঐ শত শত বছরের পুরানো ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে সচেতন হতে হবে এলাকাবাসীকে। উদ্যোগ নিতে হবে বাংলার ঐতিহ্যের সাথে মিশে থাকা এই কাচারি ঘরগুলো যেন চালু হয়। এই সংস্কৃতি আবারো চালু করলে সামাজিক, পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও কলহ কিছুটা হলেও অবসান হবে বলে মনে করেন সমাজপতিরা।দূর হবে বৈষম্যটা।বাড়ির উঠতি বয়সী ছেলেরা বখাটে হওয়া থেকে অনেকটা আটকে যাবে এই কাচারি ঘরের জন্য।

উপজেলার সলিয়া বাকপুর গ্রামের মো. আফজাল হোসেন জানান, দিন দিন আমরা বিদেশি সংস্কৃতির দিকে ঝুঁকছি। বিদেশি সিরিয়াল আর মোবাইলে আসক্ত হয়ে দেশের ঐতিহ্য ভুলে যাচ্ছি। সকাল বেলার মক্তব শিক্ষা এখন নেই। বাড়ির দরজায় কাচারি ঘরও নেই। কেন যেন আমরা আমাদের বাঙালি সংস্কৃতি থেকে সরে যাচ্ছি। মক্তব শিক্ষা ও বাড়ির দরজার কাচারিঘর একটা সমাজ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

এই সংস্কৃতি পুনরায় চালু করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান এই সমাজ সচেতন ব্যক্তি। সবারই দেশের ঐতিহ্য ধরে রাখতে এগিয়ে আসতে হবে। তবেই আমরা যে বাঙ্গালী তার পুরোটা স্বাদ উপভোগ করতে পারবো।

সারাদিন.১১ আগস্ট. আরএ