‘ডিজিটাল কনটেন্ট, ছুটির পরও বাড়ি যেতে চায় না ছোট্ট শিক্ষার্থীরা’

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২ আগস্ট ২০২২, ১১:১৫ অপরাহ্ণ

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ডিজিটাল কনটেন্ট পাওয়ার পর ছুটির পরও বাড়ি যেতে চায় না ছোট্ট শিক্ষার্থীরা। আশপাশের স্কুলের শিক্ষার্থীরা অনেকে টিসি নিয়ে এই স্কুলে চলে আসছে। যে স্কুলে মাল্টি মিডিয়া আছে সে প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল কনটেন্ট দেওয়ার দাবি উঠেছে। এই কথাগুলো ও দাবিসমুহ মানিকগঞ্জের ডিজিটাল ডিভাইস ও ডিজিটাল কনটেন্টে পরিচালিত দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র- শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।

মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গুজুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বারাহী পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডিজিটাল কনটেন্টে পাঠদান কর্মসূচী পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্টরা এ দাবি জানান।

সুবিধা বঞ্চিত প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলের ৬শত ৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তরে বিটিআরসি‘র এসওএফ তহবিলের অর্থায়নে টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তর এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এই প্রকল্পের আওতায় মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় এই দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ডিজিটাল কনটেন্টের মাধ্যমে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়।

অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক মো : আব্দুল ওহাব, বিজয় ডিজিটাল এর সিইও জেসমিন জুই, মানিকগঞ্জের এডিসি জেনারেল মো: সানোয়ার হক, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জ্যতিশ্বর পাল, ঊপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: মোহসীন রেজাসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।ডিজিটাল ডিভাইসে ডিজিটাল কনটেন্টে পাঠ প্রদানের ফলপ্রসূ অবদান তুলে ধরে ডিজিটাল প্রযুক্তি বিকাশের অগ্রদূত জনাব মোস্তফা জব্বার বলেন, শিশুরা খেলার ছলে আনন্দের সাথে তাদের এক বছরের সিলেবাস ২ মাসের মধ্যে শেষ করতে সক্ষম হয়।

শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তরের স্বপ্নদ্রষ্টা মোস্তাফা জব্বার নেত্রকোণা জেলার পূর্বধলায় তার পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত একটি ডিজিটাল স্কুলের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে বলেন, শিশুদেরকে ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করতেই হবে। ডিজিটাল শ্রেণি কক্ষে ডিজিটাল কনটেন্টে পাঠদান কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তরের প্রকল্পটি বাস্তবায়নের শেষ হবার পথে। ডিজিটাল কনটেন্টের মাধ্যমে প্রাথমিক পাইলটিং স্তরের শিক্ষার্থীদের পাঠদান বিষয়ে শিক্ষক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রাথমিক স্তর থেকে শিক্ষার ডিজিটাল রুপান্তরের কার্যক্রম শেষ স্তুরে রয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি আমাদের এগিয়ে যাওয়ার চালিকা শক্তি। করোনাকালে উন্নত দুনিয়ার তুলনায় আমাদের ভাল করার মূল মন্ত্রটি ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি।

মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় ২০০৯ সাল থেকে গত তের বছরে হাটি হাটি পা পা করে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যক্রম ডিজিটালে রূপান্তরে সক্ষম হয়েছি। বিশ্বে বাংলা ভাষায় এ ধরনের ডিজিটাল উপাত্ত তৈরি করা এটাই প্রথম ও এখন পর্যন্ত একমাত্র।

জেসমিন জুইবলেন, শিশুদের জন্য মান সম্মত একটি ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। গত তের বছরে বিজয় ডিজিটাল কনটেন্ট সে চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরিতে মাননীয় মন্ত্রীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টার বিবরণ তুলে ধরেন। ঊপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের বাইরে তার অধীন যে সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ডিভাইস আছে সেগুলোর জন্য বিজয় ডিজিটাল উপাত্ত পাওয়ার জন্য অনুরোধ ব্যক্ত করেন। মন্ত্রী এ বিষ্যয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস ব্যক্ত করেন।

ডিজিটাল কনটেন্টের মাধ্যমে পাঠদানে সংশ্লিষ্টদের সুবিধা এবং অসুবিধা সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করাই এই পরিদর্শনের লক্ষ্য।