বায়ুদূষণে শীর্ষ পাঁচে ঢাকা

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট ২০২২, ১:২৮ পূর্বাহ্ণ

বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার অবস্থান শীর্ষ পাঁচে রয়েছে। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি। আর এই দূষিত বায়ুর কারণে ২০১৯ সালে রাজধানীতে ২২ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দুইটি গবেষণা সংস্থা।

ওই সংস্থা দুটি হলো- হেলথ ইফেক্টস ইনস্টিটিউট এবং ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশন।

বুধবার (১৭ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওই সংস্থা দু’টির “এয়ার কোয়ালিটি অ্যান্ড হেলথ ইন সিটিস” শীর্ষক
এক বৈশ্বিক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, দূষিত বায়ুর কারণে ২০১৯ সালে ঢাকায় ২২ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ঢাকার প্রতি ঘনমিটারে বাতাসে বার্ষিক গড় সূক্ষ্ম বস্তুকণার (পিএম২.৫) উপস্থিতি ৭১ দশমিক ৪ মাইক্রোগ্রাম আর নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইডের (এনও২) উপস্থিতি ২৩ দশমিক ৬ মাইক্রোগ্রাম।

বাতাসে ভেসে থাকা সব কঠিন ও তরল কণার সমষ্টিই সূক্ষ্ম বস্তুকণা। এর মধ্যে অনেকগুলোই স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক। এই জটিল মিশ্রণে ধুলা, পোলেন, কালি, ধোঁয়া এবং তরল ড্রপলেটের মতো অসংখ্য জৈব ও অজৈব কণা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পুরোনো যানবাহন, বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় রান্না এবং গরমের জন্য পোড়ানো জ্বালানি থেকে নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইডের মতো ক্ষতিকর পদার্থ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে দূষিত হচ্ছে বায়ু। শহরের বাসিন্দারা ব্যস্ত সড়কের কাছাকাছি বসবাস করেন। সে কারণে তারা গ্রামের লোকজনের তুলনায় বেশি পরিমাণে দূষণের শিকার হন।

সংস্থা দু’টি বলেছে, বিশ্বে শীর্ষ দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি। শহরটিতে বায়ুকণা পিএম২.৫ এর গড় বার্ষিক ঘনত্ব প্রতি ঘনমিটারে ১১০ মাইক্রোগ্রাম। এরপরই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দেশটির আরেক শহর কলকাতা। এ শহরে বায়ুকণা পিএম২.৫ এর গড় বার্ষিক ঘনত্ব প্রতি ঘনমিটারে ৮৪ মাইক্রোগ্রাম।

তৃতীয় স্থানে থাকা নাইজেরিয়ার কানো শহরের ক্ষেত্রে তা ৮৩.৬ মাইক্রোগ্রাম। চতুর্থ স্থানে থাকা পেরুর রাজধানী লিমার বায়ুকণা পিএম২.৫ এর গড় বার্ষিক ঘনত্ব প্রতি ঘনমিটারে ৭৩.২ এবং বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার ৭১ দশমিক ৪ মাইক্রোগ্রাম।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বায়ুমান নির্দেশিকা অনুসারে, প্রতি ঘনমিটারে বার্ষিক পিএম২.৫ উপস্থিতি ৫ মাইক্রোগ্রাম আর নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইডের উপস্থিতি ১০ মাইক্রোগ্রাম সহনীয় মাত্রা।

সারাদিন/১৭ আগস্ট/এমবি