ওয়াসার এমডি তাকসিমের ১৩ বছরের ‘আমলনামা’ চান হাইকোর্ট

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট ২০২২, ৩:০৭ পূর্বাহ্ণ

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খানের মোট বেতন, উৎসাহ ভাতা, আনুষঙ্গিক সুবিধা হিসেবে যত টাকা নিয়েছেন তার হিসাব তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে এ হিসাব আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে ওয়াসা বোর্ডকে।

বুধবার (১৭ আগস্ট) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ একটি রিটের শুনানিতে এ আদেশ দেন।

কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ক্যাব) এর করা এ রিটের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।

একইসঙ্গে তাকসিম এ খানকে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে অপসারণের বিষয়ে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। এছাড়া তাকে অপসারণে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

এছাড়া যতদিন পর্যন্ত তাকে অপসারণ করা না হবে ততদিন ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী তার বেতন নির্ধারণে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, তাকসিম এ খান ২০০৯ সাল থেকে ঢাকা ওয়াসার এমডি পদে রয়েছেন। তার সময়ে বেশ কয়েকটি বিষয়ে তিনি আলোচিত হয়েছেন।ওয়াসার সরবরাহ করা পানি সুপেয় এবং তিনিও সেটি না ফুটিয়েই পান করেন। তার এমন বক্তব্য ব্যপক আলোচনায় আসে। তখন সমাজকর্মীরা তাকে জুরাইন এলাকায় সরবরাহ করা ওয়াসার পানির শরবত খাওয়াতে ওয়াসা ভবনে ভিড় করেন। কিন্তু তিনি সেদিন তাদের সাক্ষৎ দেননি।পানির দাম বৃদ্ধি করার প্রস্তাব নিয়ে ফের আলোচনায় আসেন তিনি। এ নিয়ে তিনি বলেন, ওয়াসা এখনও ভিক্ষা করে বা সরকারের ভর্তুকিতে চলে। তাই পানির দাম বৃদ্ধি করে সে ভর্তুকি কমাতে চান। একই সঙ্গে আবার তিনি নিজের বেতন বাড়ানোর কথা বলেন বোর্ডকে।ওয়াসার কোনো আয় না থাকলেও নিজের এবং কর্মীদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাবেও সমালোচিত হন দীর্ঘ সময় ধরে এমডি পদে থাকা তাকসিম এ খান। তাকসিম এ খান ষষ্ঠ দফায় ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন। এ দফায় তিন বছরের জন্য মেয়াদ বাড়ানো হয় তার।