‌ইতিহাস গড়ে, ‘কে-টু’ জয় দেশে ফিরলেন ওয়াসফিয়া নাজরীন

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট ২০২২, ৭:০৫ অপরাহ্ণ

বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এবং বিপদসংকুল পর্বতশৃঙ্গ ‌‘কে-টু’ জয় করা প্রথম বাংলাদেশি ওয়াসফিয়া নাজরীন দেশে ফিরেছেন। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এবং বিপদসংকুল পর্বতশৃঙ্গ কে-টু জয় করার পর মাতৃভূমিতে ফিরেছেন ওয়াসফিয়া নাজরীন। নেপালের কাঠমান্ডু থেকে বিমান বাংলাদেশের একটি ফ্লাইটে করে বুধবার (১৭ আগস্ট) দেশে ফিরেছেন ৩৯ বছর বয়সী এই পর্বতারোহী।

তিনি বাংলাদেশের একমাত্র ‘সেভেন সামিট’ জয়ী পর্বতারোহী। ১৯৫৪ সালের পর কে-টু-তে আরোহণ করা ৪০ নারী পর্বতারোহীর একজন তিনি।

দেশে পৌঁছে রাজধানীর বনানীতে শেরাটনে এক সংবাদ সম্মেলনে আসেন ওয়াসফিয়া নাজরীন। এ সময় দুই মাসব্যাপী কারাকোরাম অভিযানের রোমাঞ্চকর যাত্রা নিয়ে কথা বলেন তিনি। এই অভিযানে স্পন্সর করে রেনাটা লিমিটেড।

সংবাদ সম্মেলনে ওয়াসফিয়া বলেন, বাংলাদেশ যখন ৪০ -এ পা দেয়, তখন আমি সেভেন সামিট জয় করার যাত্রা শুরু করি। দেশের ৫০ বছরে আমি চেয়েছিলাম কে-টু জয় করতে। এজন্য আমি ১০ বছর ধরে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে কে-টু যাত্রার জন্য তৈরি করেছি।

তিনি বলেন, ডেথ-জোন (অক্সিজেনের ভয়াবহ স্বল্পতার কারণে যেসব পর্বত আরোহণ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ) পর্বতসমূহ আরোহণ করতে অনেক মানুষের প্রয়োজন হয়। আর এ সাফল্যের জন্য আমি আমার দলের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমার এ দলে যারা ছিলেন, তাদের বেশ কয়েকজনকে এ মুহূর্তে বিশ্বের সেরা পর্বতারোহী হিসেবে মনে করা হয়। যারা আমার মঙ্গল কামনা করেছেন এবং আমার ওপর ভরসা করেছেন, সবাইকে ধন্যবাদ।

ওয়াসফিয়া নাজরীন বলেন, কে-টু আমার আরোহণ করা সবচেয়ে দুর্গম পর্বত, যেখানে বেশ কয়েকবার আমি পাথরে আঘাত পেয়েছি আবার কিছু ক্ষেত্রে ভাগ্যও আমাদের সহায়তা করেছে। কে-টু স্থানীয়ভাবে ‘ছোগোরি’ বা পর্বতের রাজা হিসেবে পরিচিত, প্রতি পদক্ষেপে সেখানে মৃত্যুঝুঁকি রয়েছে! একবারেই কে-টু জয় করে ফেরত আসতে পেরেছেন এমন অল্প কিছু পর্বতারোহীর মধ্যে আমরা রয়েছি। এমনও অনেক পৃথিবী-বিখ্যাত পর্বতারোহী রয়েছেন যারা বছরের পর বছর ধরে চেষ্টা করেও এ পর্বতশৃঙ্গ জয় করতে পারেননি। আমি এই অভিযানের স্পন্সর রেনাটা লিমিটেডকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তারা আমার এই মিশনের ওপর ভরসা রেখেছেন এবং আমাকে সর্বাত্মকভাবে সহায়তা করেছেন।

কারাকোরাম রেঞ্জের কে-টু পর্বত ৮ হাজার ৬১১ মিটার উঁচু এবং এভারেস্টের চেয়েও দুর্গম এই পর্বতচূড়াটি প্রায় পিরামিড-সদৃশ ঢাল। অনিশ্চিত আবহাওয়ার এই ‘স্যাভেজ মাউন্টেন’ -এর চূড়ায় এখন পর্যন্ত পা রাখতে পেরেছেন মাত্র ৪শ’ পর্বতারোহী। তাদের মধ্যে অনেকেই বেঁচে আর নিচে নামার সুযোগ পাননি।

ওয়াসফিয়া নাজরীন গত ২২ জুলাই তার দলের সঙ্গে কে-টু পর্বতশৃঙ্গে আরোহণ করেন। এই দলের সদস্য মিংমা তেনজি শেরপা, মিংমা ডেভিড শেরপা ও নির্মল পুরজাকে নিয়ে ‘১৪ পিকস’ নামে একটি ডকুমেন্টারি করেছে নেটফ্লিক্স।