পুরান ঢাকা যানজট

গুলিস্তান থেকে সদরঘাটে যানে ঘুমিয়ে গন্তব্যে পথ পাড়ি!

বিশেষ প্রতিনিধিবিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:০১ অপরাহ্ণ, ১৬/১১/২০১৯

মাত্র তিন কিলোমিটারের পথ পুরান ঢাকার গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত। আর এই পথে গুলিস্তান থেকে সদরঘাটে যেকোনো যানবাহনে অনেকে ঘুমায়! কারণ হিসাবে যাত্রীরা জানান, এই পথে যেতে কমপক্ষে পাঁচবার সিগন্যালে পড়তে হয়! আর এতেই কেটে যায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা। তাই অনেকে এই সময়ে ঘুমিয়ে যায়। অসহনীয় যানজট পেরিয়েই রোববার অসংখ্য মানুষকে সদরঘাটে পৌছতে হয়েছে। তবে হেঁটে এই পথে পাড়ি দিতে সময় লাগে সর্বোচ্চ ২০ থেকে ২৫ মিনিট। কিন্তু বেশি যানজট পড়ে রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। শুক্রবার ও শনিবার একটু যানজট বিহীন অবস্থায় থাকে।

নাড়ির টানে প্রিয়জনের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ করার জন্য দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ঘরমুখো মানুষ এই পথ দিয়েই প্রতিনিয়ত যাতায়াত করে। এতে অনেক সময় সদরঘাট পৌছতে গিয়ে রীতিমতো নাভিশ্বাস হয়ে পড়ে। তীব্র যানজটের কারণে হাজার হাজার মানুষ দলে দলে হেঁটে সদরঘাটে পৌছায়। নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।

রোববার সকালে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সকালের দিকে গুলিস্তান থেকে বাহাদুর শাহ পার্ক এলাকা পর্যন্ত যাত্রীবাহী বাস পর্যাপ্ত পরিমান চলাচল করলেও তা ধীরে ধীরে চলছে। আর সেখানে যানজট লেগেই আছে। দুপুর একটার পর থেকে রায়সাহেব বাজার মোড়, বাহাদুর শাহ পার্ক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে তিনটি ব্যারিকেডে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করেছে পুলিশ।

এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সহ ভালো ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা তো এই পথেই চলাচল করে। এছাড়াও জজ কোর্ট ও সিএমএইচ কোর্টও রয়েছে এখানেই। তাই মামলা-মোকাদ্দমা সহ নানান বিষয়ে আসামীরা এই পথেই যাতায়াত করে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঘরমুখো হাজার হাজার মানুষ তীব্র যানজটে অসহনীয় দুর্ভোগের ভোগান্তির শিকার হয়। দলে দলে মানুষ গুলিস্তান থেকে হেঁটে সদরঘাটে আবার সদরঘাট থেকে গুলিস্তানে পৌছায়। রাজধানীর গুলিস্তানের জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত সড়কে সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত যানজট লেগেই থাকে। ওই সড়কে যাতায়াতাকারীদের প্রতিদিনই ভোগান্তির শিকার হতে হয়।

সড়কটির দুই পাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পণ্য ওঠানো-নামানোর জন্য রাস্তার অর্ধেক দখল করে ট্রাক, কার্ভাড ভ্যান, পিকআপ ভ্যান, লরি, রিকশা ভ্যান, ঠেলাগাড়ি রাখার কারণে সৃষ্টি হয় ভয়াবহ এ যানজটের। যানজটের কবলে পড়ে প্রতিনিয়ত ওই সড়কে যাতায়াত করা মানুষের মূল্যবান সময় অপচয় হচ্ছে।

Nagad

স্থানীয় আসাদুল হক বলেন, গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে বংশাল আলুবাজার পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশে রয়েছে প্লাস্টিকের বিভিন্ন পণ্য, পাইপ, স্যানিটারি পণ্যের পাইকারি দোকান ও বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয়। আলুবাজার থেকে তাঁতীবাজার মোড় পর্যন্ত লোহালক্কড়, স্টিল, স্টিলের ম্যাট পাত, লোহার পাইপ ও রড-সিমেন্টের পাইকারি দোকান। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত এসব পাইকারি দোকানের পণ্য আনা-নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত ট্রাক, পিকআপ ভ্যান, লরিসহ নানা যানবাহন উভয় পাশের সড়কের অর্ধেকের বেশি অংশ দখল করে রাখে।

এবিষয়ে স্থানীয় বাড়ীওয়ালা আব্দুল করিম বলেন, বংশাল ওভারব্রিজের পাশে সড়কের এ অংশে রয়েছে অস্থায়ী ভ্যান ও রিকশার স্ট্যান্ড, সড়কের মাঝ ঘেঁষে সিটি করপোরেশনের ময়লা রাখার ডাস্টবিন। এ ছাড়া এ সড়কে সব সময় ট্রাক, পিকআপ ভ্যানসহ বিভিন্ন পরিবহন এজেন্সির কার্গো ভ্যান পার্কিং করে রাখা হয়।

প্রতিদিনই গুলিস্তান থেকে সদরঘাট যাতায়াত করতে হয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নবনীতা। তিনি বলেন, ‘তীব্র যানজটের কারণে আমাদের সবার সময় নষ্ট হচ্ছে। আর গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য হাতে দুই-এক ঘণ্টা সময় বেশি নিয়ে বাসা থেকে বের হতে হয়। না হলে যথাসময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো যায় না।’

ঢাকা মহানগরীর ট্রাফিক-দক্ষিণ বিভাগের কোতয়ালী জোন এসি বিমান কুমার দাস বলেন, এই রোডের মূল সমস্যাটা হচ্ছে রিকশা। এই রিকশার জন্যই আমাদের বিপদ বাড়ে। আর বঙ্গবাজার, পীর ইয়ামিনী মার্কেট, মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট সহ নানা মার্কেট রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এসব মার্কেট থেকে সারাদেশের মানুষ পাইকারী ও খুচরা কেনাকাটা করতে আসে। এছাড়াও নদী বন্দরে হাজার হাজার যাত্রী যাতায়াত করে। আর এই ছোট পথ দিয়ে সবাই আসা যাওয়া করলে আমাদের অনেক চিন্তা করে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করি। তাই যদি এই রাস্তায় ফ্লাইওভার হয় তবে অনেক ভালো হবে।