অপপ্রচারে কান না দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বান

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:০৪ অপরাহ্ণ, ২১/১১/২০১৯

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গুজবে কান না দেয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেছেন, গুজব ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।মাঝে মাঝে আমরা দেখি, অপপ্রচার চালিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়। আমি সবাইকে একটা কথা বলবো, এই অপপ্রচারে কান দেবেন না।’  বিভিন্ন অপপ্রচার বিশেষকরে পেঁয়াজ, লবণ প্রভৃতির সংকটের অপপ্রচার চালিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) শস্ত্রবাহিনী দিবস উপলক্ষে আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে ‘স্বাধীনতা যুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারীদের সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। একই অনুষ্ঠানে ২০১৯-২০ সালে সশস্ত্রবাহিনীর শান্তিকালীন সেনা/নৌ/বিমান বাহিনী পদক এবং অসামান্য সেবা পদকপ্রাপ্ত সদস্যদের পদক দেয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘এটা করবে আমি জানি, এটা স্বাভাবিক। কাজেই সেটাকে মোকাবেলা করেই আমাদের চলতে হবে, আমরা সেভাবেই চলছি।’ দেশের একটি স্বার্থান্বেষী মহলের পেঁয়াজ, লবন এবং চালের মত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির অপপ্রচার চালিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার সাম্প্রতিক অপচেষ্টার প্রেক্ষিতে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাঁথা ইতিহাস আগামী প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদেরকে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের কাহিনী শিশু,নাতি-নাতনী এবং স্থানীয় জনগণের কাছে তুলে ধরার আহবান জানান। তিনি বলেন,‘আমরা সকল উপজেলাতে মুক্তিযুদ্ধ কমপ্লেক্স তৈরী করে দিচ্ছি। কাজেই সেসব অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের দলিল-দস্তাবেজ আর নষ্ট হবে না এবং আগামী প্রজন্মের শিশুরা যুদ্ধের প্রকৃত ঘটনা জানতে পারবে।’

প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্রবাহিনী বিভাগ,বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে মুক্তিযোদ্ধাদের আনুষ্ঠানিক সম্মান প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করায় ধন্যবাদ জানান। তিনি দৃঢ় আস্থা ব্যক্ত করেন যে, সশস্ত্রবাহিনী বিপন্ন এবং অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য জনকল্যাণ মূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে। বক্তৃতার শুরুতে শেখ হাসিনা সশস্ত্রবাহিনী দিবস উপলক্ষে সশস্ত্রবাহিনীর সকল সদস্যদের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

তিনি বলেন, এইদিনে অকুতোভয় সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যরা এবং দেশের সাধারণ জনগণ পাকিস্তানী দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মিলিত আক্রমন শুরু করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন‘যে কারণে আমাদের বিজয় ত্বরান্বিত হয় এবং আমরা স্বাধীন এবং সার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জনে সমর্থ হই।’

Nagad

এর আগে প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযদ্ধের ৭ বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সদস্য এবং খেতাব জয়ী সশস্ত্রবাহিনীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে সম্মানীর চেক এবং উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন।

তিনি অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের হাতে ‘বিশিষ্ট সেবা পদক’ এবং ৯ জন সেনা সদস্য, দু’জন নৌবাহিনীর সদস্য এবং তিনজন বিমানবাহিনীর সদস্যদের হাতে শান্তিকালিন ‘বাহিনী পদক’ তুলে দেন। সশস্ত্রবাহিনী বিভাগের পিএসও লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো.মাহফুজুর রহমান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষযক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব:) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌ বাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল আবু মোজাফফর মহিউদ্দিন মোহাম্মাদ আওরঙ্গজেব চৌধুরী, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত এবং উচ্চ পদস্থ সামরিক এবং বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সশস্ত্রবাহিনীর খেতাব জয়ী ১০১ জন মুক্তিযোদ্ধা এবং তাঁদের পরিবার-পরিজন এবং ৭ বীরশ্রেষ্ঠ’র নিকটাত্বীয়গণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।