বৃষ্টি থামলেও ভয় কাটেনি, নোয়াখালীতে আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছেন মানুষ
নোয়াখালী জেলায় টানা ভারী বর্ষণের কারণে মারাত্মক জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলার ৬৩ হাজার ৮৬০টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে মোট ৪৬৬টি আশ্রয়কেন্দ্র।
বুধবার পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে ২৬৮টি পরিবার। এর মধ্যে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হিসেবে উঠে এসেছে সদর, কোম্পানীগঞ্জ, চাটখিল ও সুবর্ণচর উপজেলার নাম।
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, অতিবৃষ্টির ফলে অনেকের বসতঘর, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি পানির নিচে চলে গেছে। সদর উপজেলার বাসিন্দা মোজাম্মেল হক বলেন, ‘ভারী বর্ষণে আমাদের ঘর ডুবে গেছে। তবে আজ ভোর থেকে বৃষ্টি না থাকায় কিছুটা স্বস্তি লাগছে। আল্লাহ যেন সবাইকে রক্ষা করেন। ২০২৪ সালের বন্যাতেও আমরা অনেক ক্ষতির মুখে পড়েছিলাম।’
একইভাবে কোম্পানীগঞ্জের চরফকিরা ইউনিয়নের বাসিন্দা আমির হোসেন জানান, ‘এ বছরের পানি গতবারের চেয়েও বেশি। অনেকের ঘরবাড়ি ডুবে গেছে। বাতাসে চালা উড়ে গেছে। বেশিরভাগ মানুষ এখন আশ্রয়কেন্দ্রে।’
জেলা প্রশাসক খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের ৯ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রয়েছে। গঠন করা হয়েছে ১০১টি মেডিকেল টিম। জরুরি সহায়তার জন্য মজুত রয়েছে ৫০০ টন চাল, ২৭৮০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং নগদ ১৮ লাখ টাকা।
তিনি আরও বলেন, ‘জেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও সহায়তা দেওয়া হবে’
বৃষ্টিপাত কমলেও উজান থেকে পানি আসা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

