অতি শিগগিরই আপনাদের সঙ্গে দেখা হবে: তারেক রহমান
রাজশাহী মহানগর বিএনপি আয়োজিত সম্মেলনে দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, মানুষের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব। অতি শিগগিরই আপনাদের সঙ্গে দেখা হবে।
রোববার (১০ আগস্ট) বিকেলে লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আওয়ামী সরকারের ১৭ বছরের “দুঃশাসন” তুলে ধরেন এবং বলেন, এই সময়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা গুম, খুন ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচারব্যবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত ধ্বংস করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এই স্বৈরাচার বিএনপির নেতাকর্মীদের নির্যাতন করেছিল। কয়েক লাখ নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জর্জরিত করে রেখেছিল। শুধু বিএনপি নয়, বিরোধী সব রাজনৈতিক দল—যারা রাজপথে ছিল তাদেরও চরম নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। রাজনীতির বাইরেও সাধারণ মানুষ সরকারের সমালোচনা বা প্রতিবাদ করলে তাদেরও নির্যাতন ভোগ করতে হয়েছে।
জুলাই মাসের আন্দোলনে দেড় মাসে দেড় হাজার মানুষ নিহত এবং হাজার হাজার মানুষ পঙ্গু হওয়ার অভিযোগ তুলে তারেক রহমান বলেন, এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনা। তিনি জানান, আগামী বছর রমজানের আগেই অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচন পরবর্তী সময়ের জন্য যুবসমাজকে কর্মসংস্থান, অর্থনীতি পুনর্গঠন, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য ও বিচারব্যবস্থা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘এই নির্বাচনের মাধ্যমেই জনগণের প্রথম অধিকার প্রতিষ্ঠা হতে যাচ্ছে। আপনারা বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা যখন জনগণের কাছে যান তখন বাংলাদেশের মানুষ জানতে চায় দেশের জন্য কী করবেন, দেশের ভবিষ্যৎ কী হবে। এজন্য জনগণের আস্থা অর্জনে জনগণের সঙ্গেই থাকতে হবে। আগামী নির্বাচনে অধিকাংশ মানুষ ধানের শীষকেই বেছে নেবে।’ এ সময় তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের তরুণদের প্রথম ভোট ধানের শীষের জন্যই হোক।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘শুধু নির্বাচন হলেই হবে না, নির্বাচন পরবর্তী দেশ পুনর্গঠনে যুবসমাজকে মূল্যায়ন করতে হবে। তাদের কর্মসংস্থান করতে হবে। স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ব্যবস্থা সংস্কার করতে হবে। অর্থনীতির পুনর্গঠন, খাদ্য উৎপাদন ইত্যাদি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।’
রাজশাহী মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশার সভাপতিত্বে সম্মেলনে যুবদল নেতা শরিফুল ইসলাম জনির সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহসম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাইদ চাঁদ, নগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল হুদা, যুগ্ম আহ্বায়ক শাফিকুল ইসলাম শাফিক, যুগ্ম আহ্বয়ক বজলুর রহমান মন্টু, নগর যুবদলের আহ্বায়ক মাহাফুজুর রহমান রিটনসহ অন্যান্যরা। মুহুর্মুহু করতালি আর স্লোগানের মধ্য দিয়ে তারেক রহমান অনলাইনে বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে সম্মেলনে যুক্ত হন।
রাজশাহী বিভাগীয় বিএনপির সমন্বয়কারী আব্দুস সালাম তার বক্তৃতায় বলেন, নেতা (তারেক রহমান) আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন রাজশাহী বিএনপির রাজনীতিকে সুদৃঢ় করতে। তিনি আমাকে ব্যক্তিগতভাবে বলেছেন, রাজশাহী আমার বিভাগ। আপনাকে আমার দলের দায়িত্ব নিতে হবে। আমি আমার নেতার কথামতো দায়িত্ব পালন করেছি। এখন থেকে রাজশাহীর বিএনপিতে কোনো বিভাজন থাকবে না ইনশাআল্লাহ।

