১৫০ কোটি টাকা আত্মসাতে এস আলম-সিকদার পরিবারের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক:নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: ৭:৪৩ অপরাহন, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৫

নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে ১৫০ কোটি টাকা ঋণ আত্মসাতের অভিযোগে আলোচিত শিল্পগোষ্ঠী এস আলমের কর্ণধার সাইফুল আলম ও সিকদার গ্রুপ সংশ্লিষ্ট ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম মামলার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।

মামলায় সিকদার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রন হক সিকদার, তার ভাই পরিচালক রিক হক সিকদার, তিন বোন মমতাজুল হক সিকদার, লিসা ফাতেমা হক সিকদার ও পারভীন হক সিকদারকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া রিক হক সিকদারের ছেলে জন হক সিকদারও আসামির তালিকায় রয়েছেন।

এ ছাড়া, এম. এস. কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপারসের স্বত্ত্বাধিকারী মো. সালাউদ্দিন, মাহবুব এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারী সৈয়দ মাহবুব-ই-করিম, ম্যাম ইমপেক্সের মালিক মনীশংকর বিশ্বাস ও মো. শেখ আলমকেও আসামি করা হয়েছে।

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন একাধিক কর্মকর্তা ও পরিচালনাও মামলার আসামির তালিকায় আছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের এস আলম (সাবেক চেয়ারম্যান) ছাড়া যাদের আসামি করা হয়েছে, তারা হলেন- ব্যাংকটির সাবেক সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপক এম. এম. মোস্তাফিজুর রহমান, সাবেক উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জহুরুল হক, সাবেক অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আজিজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ ওয়াসেক মো. আলী, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল মালেক, সাবেক পরিচালক ফারজানা পারভীন, আতিকুর নেসা, সাবেক স্বতন্ত্র পরিচালক মোহাম্মদ ইসহাক, আহমদ মুক্তাদির আরিফ, ড. মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, সাবেক মনোনীত পরিচালক খন্দকার ইফতেখার আহমদ, বদরুন নেছা, জামাল মোস্তফা চৌধুরী, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোল্লা ফজলে আকবর ও সাবেক পরিচালক মো. ওয়াহিদুল আলম শেঠ।

দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ১৯ ডিসেম্বর রন হক সিকদার বেঙ্গল ও এন্ডএম সার্ভিসেসের নামে ব্যাংক হিসাব খুলে পাওয়ার প্লান্টের দুটি কার্যাদেশ বাস্তবায়নের কথা বলে ১৫০ কোটি টাকার বাই-মুরাবাহা ঋণের আবেদন করেন। তবে তদন্তে কোনো কার্যাদেশ বা জামানত পাওয়া যায়নি।

Nagad

পরবর্তীতে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ঋণ অনুমোদন করে এবং ৫ ফেব্রুয়ারি ১২ দফায় পুরো অর্থ ছাড় করা হয়। একই দিন এম. এস. কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপারসকে ৪৭ কোটি, মাহবুব এন্টারপ্রাইজকে ৪৮ কোটি ও ম্যাম ইমপেক্সকে ৬০ কোটি টাকা দেওয়া হয়। কোনো জামানত বা প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিতরণকৃত এই ঋণের অর্থ বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তর করে আত্মসাৎ করা হয় বলে দুদকের অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। ২০২৫ সালের ২৪ আগস্ট পর্যন্ত সুদসহ বকেয়া দাঁড়িয়েছে ২০৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকার বেশি।

উল্লেখ্য, ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর সিকদার পরিবার ও ব্যবসায়ী এস আলমের নামে অর্ধডজনের বেশি মামলা দায়ের করেছে দুদক। সূত্র: ঢাকা পোস্ট