বানারীপাড়ায় ভূমিকম্পের প্রভাবে বসতঘর সন্ধ্যা নদীতে বিলীন

বরিশালের বানারীপাড়ায় ভূমিকম্পের পরপরই সন্ধ্যা নদীর তীর ভেঙে একটি বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ঘটনাটি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের উত্তর নাজিরপুর গ্রামে ঘটেছে। এতে বসতঘর, বেশ কয়েকটি গাছপালা এবং প্রায় ২০ শতাংশ জমি নদীতে তলিয়ে গেছে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সারাদেশে সংঘটিত ভূমিকম্পের কিছুক্ষণ পরই নদীর পাড় ধসে পড়ে ঘরটি নদীতে মিলিয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়িটির মালিক মো. আবু বকর ঘরামী জানান, তার পরিবার বহুকাল ধরে সেখানে বসবাস করে আসছে। নদী ভাঙনের কারণে তিনি ঘরটি অন্যত্র সরিয়ে নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু এত দ্রুত ভাঙন দেখা দেবে তা তারা ধারণাও করতে পারেননি।

আবু বকর ঘরামী বলেন, ‘বাড়িটা নদীর খুব কাছে ছিল। কয়েকদিনের মধ্যেই সরানোর কথা ভাবছিলাম। কিন্তু ভূমিকম্পের পরে হঠাৎই পুরো ঘরটা নদীতে বিলীন হয়ে গেল। ভাগ্যের নির্মম খেলে শেষ আশ্রয়টুকুও রক্ষা পেল না।’ তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতি বছরই বিশেষ করে অক্টোবর–নভেম্বর মাসে সন্ধ্যা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। এর মধ্যে চাউলাকাঠি, মিরেরহাট, জাঙ্গালিয়া, খোদাবখসা, মসজিদবাড়ি, খেজুরবাড়ি, শিয়ালকাঠি, দান্ডয়াট, ব্রাহ্মণকাঠি, কাজলাহার, জম্বদ্বীপ ও বাইশারীসহ বহু গ্রাম নদীভাঙনের চাপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ইতোমধ্যে শিয়ালকাঠি, নাটুয়ারপাড় এবং কালিরবাজারসহ কয়েকটি গ্রাম পুরোপুরি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘ দশক ধরে ভাঙনরোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আন্দোলন–সংগ্রাম করে আসলেও কার্যকর পদক্ষেপ এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে প্রতি বছরই নতুন নতুন ঘরবাড়ি ও জমি নদীর গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে।

Nagad