টেলিকম নীতিমালা ক্রিটিক্যাল, নির্বাচিত সরকার সব নীতিমালা রিভিউ করবে: খসরু

তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিবেদক:তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: ১১:৩৪ অপরাহন, নভম্বর ২২, ২০২৫

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, টেলিকম নীতিমালা অত্যন্ত ক্রিটিক্যাল। স্টেকহোল্ডারদের মতামত নিয়ে এসব নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। গত ১৫ বছরে এই সেক্টরে যেভাবে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, তাতে বিটিআরসির স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হয়েছে। এখানে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা জরুরি।

শনিবার (২২ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকার একটি হোটেলে টিআরএনবি আয়োজিত ‘আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণের চ্যালেঞ্জ: টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিখাতের দেশীয় উদ্যোক্তাদের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আমীর খসরু বলেন, যে পরিবর্তন প্রয়োজন, তা দেশীয় উদ্যোক্তা ও ডিজিটাল সিকিউরিটিকে সুরক্ষা দিবে। যে খাতে এত লাভ, সেখানে দেশীয় বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করতে পারবেন না কেন-নীতিমালা প্রণয়নের সময় এসব বিবেচনায় রাখা উচিত।

তিনি আরও বলেন, টেলিকম সেক্টরকে সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব আগামী দিনে নির্বাচিত সরকারের। অনির্বাচিত সরকার যে নীতিমালা করেছে-টেলিকমসহ সব নীতিমালা নির্বাচিত সরকার রিভিউ করবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য মনে করেন, বেস্ট, ফাস্ট ও সিকিউর নেটওয়ার্ক গড়তে নতুন টেলিকম নীতিমালায় স্পেকট্রাম ও ব্রডব্যান্ডের বিকাশে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের মধ্যে কোনো বৈষম্য রাখা যাবে না।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, নীতিমালার ক্ষেত্রে ডিজিটাল সোভরেন্টি নিয়ে ভাবতে হবে। নীতিমালায় ডিজিটাল সিকিউরিটি নিশ্চিত করতে হবে। জবাবদিহিতাহীন নীতিমালা হতে পারে না।

Nagad

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নীতিমালা প্রয়োজন। বিদেশি কোম্পানিগুলো কতটা জবাবদিহিতার মধ্যে আছে-তা নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের আইআইজি ও আইএসপিগুলো দেশীয় প্রতিষ্ঠান। কিন্তু নীতিমালায় দেখা যাচ্ছে তাদের ক্ষমতা সীমিত করে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সুযোগ বাড়ানো হচ্ছে। বন্দরের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এতে ৫-৭ লাখ কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়বে-এমন নীতিমালা মানা যাবে না।

সাংবাদিক মাসুদ কামাল বলেন, যে লোকটা জানে, তার কাজের জন্য কাউকে জবাবদিহি করতে হবে না—তার চেয়ে বিপদজনক লোক আর কেউ হতে পারে না। আমরা এখন দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিপদজনক পর্যায়ে আছি।

গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ডা. আবদুন নূর তুষার বলেন, ব্যবসায় বৈষম্য দূর করা না গেলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এসে দখল নেবে। কিন্তু দেশীয় ব্যবসায়ীদের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

ফাইবার অ্যাট হোমের চেয়ারম্যান মইনুল হক সিদ্দিকী বলেন, ঢাকার বাইরেও এনটিটিএনরা কাজ করেছে—এর প্রমাণ মাঠপর্যায়ে দেখা যায়। সেখানে ইন্টারনেটের গতি দেখলেই বোঝা যায়। অথচ নতুন টেলিকম নীতিমালায় দেশীয় উদ্যোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা করা হয়নি। এতে কর্মসংস্থানেও ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

আইএসপিএবি সভাপতি আমিনুল হাকিম বলেন, গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত আইএসপিরা সেবা দিয়ে আসছে। এই খাতে আড়াই হাজার ব্যবসায়ী কাজ করেন, বিনিয়োগ প্রায় সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। টেলিকম নীতিমালার বিরুদ্ধে প্রধান রাজনৈতিক দল সংবাদ সম্মেলন করেছে-আমরা আশা করেছিলাম সরকার নীতিমালা বাতিল করবে, কিন্তু তা হয়নি। বিএনপি আগামীতে সরকার গঠন করলে ‘মানুষ মেরে ফেলার পলিসি’ পরিহার করবে বলে আশা করছি।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফাইবার অ্যাট হোমের সুমন আহমেদ সাবির। এছাড়া বক্তব্য দেন এআইওবি সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমান, বাহন লিমিটেডের রাশেদ আমিন বিদ্যুৎ, শাহেদ আলম এবং টেলিযোগাযোগ নীতিবিশ্লেষক আবু নাজম তানভীর হোসাইন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টিআরএনবি সভাপতি সমীর কুমার দে এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাসদুজ্জামান রবিন। সাবেক সভাপতি রাশেদ মেহেদীও বক্তব্য দেন।