হোয়াটসঅ্যাপ-ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারে আসছে সাবস্ক্রিপশন, টাকা নেবে মেটা

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৫৪ অপরাহন, জানুয়রী ২৮, ২০২৬

সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে টেক জায়ান্ট মেটা। জনপ্রিয় তিন প্ল্যাটফর্ম-হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের জন্য নতুন একটি প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন সেবা চালুর পরিকল্পনা করছে মার্ক জাকারবার্গের প্রতিষ্ঠানটি। এই সেবার আওতায় উন্নত ফিচার ব্যবহারের জন্য ব্যবহারকারীদের নির্দিষ্ট অর্থ গুনতে হতে পারে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই প্রিমিয়াম সেবাটি বর্তমানে চালু থাকা ‘মেটা ভেরিফাইড’ বা ব্লু টিক সাবস্ক্রিপশন থেকে আলাদা হবে। মূলত যারা আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর অভিজ্ঞতা চান, তাদের লক্ষ্য করেই এই পেইড প্ল্যান আনার পরিকল্পনা করছে মেটা। এ বিষয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে বিনামূল্যে ব্যবহারযোগ্য এসব প্ল্যাটফর্ম থেকে নতুন আয়ের উৎস তৈরির কৌশল হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেটা। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ব্যয় সামাল দিতে প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রিমিয়াম সেবার অন্যতম আকর্ষণ হবে মেটার উন্নত ‘মানুস এআই এজেন্ট’। এর মাধ্যমে স্মার্ট রিপ্লাই, দ্রুত কনটেন্ট তৈরি এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করার সুবিধা পাওয়া যাবে। ইনস্টাগ্রামে যুক্ত হতে পারে ‘ভাইবস’ নামের একটি নতুন এআই টুল, যার সাহায্যে ব্যবহারকারীরা আকর্ষণীয় এআই ভিডিও তৈরি করতে পারবেন।

এছাড়া ইনস্টাগ্রামের প্রিমিয়াম ব্যবহারকারীদের জন্য কিছু অতিরিক্ত সুবিধা যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এর মধ্যে থাকতে পারে-কে আপনাকে ফলো করছে না তা জানার অপশন কিংবা অন্য পক্ষকে না জানিয়ে গোপনে স্টোরি দেখার সুবিধা। হোয়াটসঅ্যাপেও প্রিমিয়াম গ্রাহকদের জন্য বাড়তি কাস্টমাইজেশন ও এআই-চালিত চ্যাট ফিচার যুক্ত হতে পারে।

তবে মেটা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই প্রিমিয়াম সুবিধা নেওয়া সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক হবে। যারা অর্থ ব্যয় করতে চান না, তারা আগের মতোই বিনামূল্যের সংস্করণ ব্যবহার করতে পারবেন।

Nagad

এদিকে, নতুন এই উদ্যোগকে ঘিরে গোপনীয়তা নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে হোয়াটসঅ্যাপে বিজ্ঞাপন বাড়ার পর অনেকেই আশঙ্কা করছেন, তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ভবিষ্যতে এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হতে পারে। যদিও মেটার দাবি, ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না। সোশ্যাল মিডিয়ার এই নতুন ব্যবসায়িক মডেল ব্যবহারকারীদের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য হবে এবং মেটার এই পরিকল্পনা কবে বাস্তবায়িত হয়-এটাই এখন দেখার বিষয়।