হরমুজ সংকটের প্রভাব: ঢাকায় তেল নিতে হুড়োহুড়ি, অনেক পাম্পে ‘তেল নেই’

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৩২ পূর্বাহ্, মার্চ ৬, ২০২৬

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের বাজারেও। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ করে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের চাহিদা বেড়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সন্ধ্যার পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বেশ কিছু ফিলিং স্টেশন বন্ধ রয়েছে। ফলে অনেকেই গাড়িতে তেল নিতে এসে ফিরে যাচ্ছেন।

রাজধানীর নীলক্ষেত ও নিউমার্কেট এলাকার সবকটি তেলের পাম্প বন্ধ থাকতে দেখা গেছে। নীলক্ষেত মোড়ের ‘বন্ধু ফিলিং স্টেশন’-এর স্টাফ মিলন বলেন, বিকেল থেকেই চাহিদা বেশি ছিল। পাম্পে যে তেল ছিল তা শেষ হয়ে গেছে। নতুন তেলের গাড়ি না এলে সরবরাহ দেওয়া সম্ভব নয়।

অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণ-এর উল্টো পাশের একটি পাম্পের বিক্রেতা জানান, পাম্পে তেল নেই। রাত ৯টার পর তেলের গাড়ি আসার কথা রয়েছে। তখনই আবার সরবরাহ দেওয়া যাবে।

এদিকে শেওড়াপাড়া এলাকার মেসার্স সোবহান ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। সেখানে একেকটি মোটরসাইকেলকে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। পাম্পটির কর্মচারী মজিবুর বলেন, আশপাশের অনেক পাম্পে তেল না থাকায় এখানে ভিড় বেড়েছে। মালিকপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী ৫০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না।

তেল নিতে এসে অনেকেই খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। মোস্তফা আহমেদ নামের এক গ্রাহক বলেন, তেল নিতে এসে দেখি পাম্প বন্ধ। সরকার বলছে তেল আসছে, কিন্তু পাম্প বলছে নেই। এতে সন্দেহ হচ্ছে, কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে কি না।

Nagad

একই ধরনের অভিযোগ করেন নীলক্ষেত মোড়ের রাসেল মিয়া। তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে যদি সংকট হয়ও, এখনই তো তেল শেষ হওয়ার কথা নয়। অনেক পাম্প হয়তো দাম বাড়ানোর আশায় বন্ধ রাখছে।

এদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, মার্চ মাসের হিসাবে দেশে ডিজেল প্রায় ১৪ দিনের, পেট্রোল ১৫–১৭ দিনের, অকটেন প্রায় ২৮ দিনের, ফার্নেস অয়েল প্রায় ৯৩ দিনের এবং জেট ফুয়েল প্রায় ৫৫ দিনের মজুত রয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখনই দেশে জ্বালানি সংকট তৈরি হওয়ার কথা নয়। তবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সরকার।