চার ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:২৮ পূর্বাহ্, মার্চ ১০, ২০২৬

বেসরকারি খাতের চারটি ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকগুলো হলো ন্যাশনাল ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক এবং আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক। গত সপ্তাহে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এসব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়োগ দেওয়া স্বতন্ত্র ও শেয়ারধারী পরিচালকদের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো পরিচালিত হচ্ছিল। তবে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হওয়ায় এবার এসব ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, স্বতন্ত্র পরিচালকদের বিরুদ্ধেও কিছু অভিযোগ ওঠায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক পদমর্যাদার চার কর্মকর্তাকে পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, নির্বাহী কমিটি ও নিরীক্ষা কমিটির সভায় উপস্থিত থেকে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন।

ন্যাশনাল ব্যাংকে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক মুনির আহমেদ চৌধুরী। আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকে পরিচালক মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, প্রিমিয়ার ব্যাংকে পরিচালক এ এন এম মঈনুল কবির এবং আইএফআইসি ব্যাংকে পরিচালক এ কে এম কামরুজ্জামান পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ন্যাশনাল ব্যাংক পরিচালনা করত সিকদার গ্রুপের জয়নুল হক সিকদার পরিবার। প্রিমিয়ার ব্যাংক পরিচালনা করত এইচ বি এম ইকবালের প্রিমিয়ার গ্রুপ। আইএফআইসি ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক পরিচালনায় ছিলেন এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুনে ন্যাশনাল ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ছিল ৪৯ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বেড়ে ৭৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। প্রিমিয়ার ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪১ শতাংশে দাঁড়ায়। আইএফআইসি ব্যাংকে খেলাপি ঋণ ৯ শতাংশ থেকে ৬১ শতাংশে এবং আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকে ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৮ শতাংশে পৌঁছেছে।

Nagad

ব্যাংকারদের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়েছিলেন। তখন সেগুলো নিয়মিত দেখানো হলেও বর্তমানে অনেক ঋণই খেলাপি হয়ে পড়েছে।