হাম নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান, টিকাদান জোরদারের তাগিদ
বাংলাদেশে হাম সংক্রমণ দ্রুত ছড়াতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এ রোগের ঝুঁকি বেশি থাকায় দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া (এমবিবিএস, ঢাকা; এমপিএইচ, সুইডেন) বলেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা নিয়ন্ত্রণে টিকাদানই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে সংক্রমণ বাড়তে পারে। এজন্য টিকাদান কর্মসূচি, সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
ব্যাপক টিকাদানের আহ্বান
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম প্রতিরোধে MMR (Measles, Mumps, Rubella) টিকার শতভাগ কভারেজ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। যেসব এলাকায় টিকা কার্যক্রম পিছিয়ে আছে, সেখানে বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্কুল ও কমিউনিটি পর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার কথাও বলা হয়েছে।
শিশুদের বিশেষ সুরক্ষা
৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের হাম আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। অপুষ্ট শিশুরা আরও বেশি ঝুঁকিতে থাকে বলে পুষ্টি কর্মসূচি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভিটামিন ‘এ’ সাপ্লিমেন্ট দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা জটিলতা কমাতে সহায়ক।
দ্রুত শনাক্তকরণ ও আইসোলেশন
জ্বর ও ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা এবং আক্রান্ত রোগীকে আলাদা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। হাসপাতালগুলোতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার কথাও বলা হয়েছে।
জনসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি
‘হাম শুধু সাধারণ জ্বর নয়’-এ বার্তা জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। গ্রাম ও শহরে মসজিদ, স্কুল ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রচার চালানোর পাশাপাশি টিকা-বিরোধী গুজব প্রতিরোধের আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করার তাগিদ
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নজরদারি (surveillance) বাড়ানো, প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং জরুরি টিকা ও ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া বলেন, সময়মতো পদক্ষেপ নিলে হাম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, নইলে শিশুদের মধ্যে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

