স্বৈরাচার ও গুপ্ত আবার এক হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
স্বৈরাচার ও গুপ্ত আবার এক হয়েছে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গুপ্ত বাহিনীর সাথে পালিয়ে যাওয়া শক্তির তলে তলে যোগাযোগ হয়েছে। ওরা বরাবরই এক। একটি জনবহুল দেশে রাজনৈতিক দলের দুষ্ট লোকজন কিছু অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটাচ্ছে আর সেটিকে পুঁজি করে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে গুপ্তরা। ১৯৯১ সালে তাদের সাথে ছিল স্বৈরাচার।’
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফেনীর ফুলগাজী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি ও কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডে শুধু দেশই নয়, বহিঃবিশ্বেও বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে, অথচ তারা অন্যদের নসিয়ত করে বেড়াচ্ছে। দেশের উন্নয়ন ব্যহত হলে তার দায়ভার তাদের রিতে হবে।’
সরকার প্রধান বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল ৭১ -এর রূপে আবারও ফিরে গেছে, মা-বোনদের ইজ্জত হরণ আর হত্যায় মেতে উঠেছে। বিএনপি নেতাকর্মী ও উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন এখন সময় এসেছে এদের মুখোশ উন্মোচন করার। নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী ওই রাজনৈতিক দলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, দয়া করে আগে নিজের ঘর সামলান, পরে অন্যদের নসিয়ত করুন।’
দেশে অনেক রাজনৈতিক দল থাকলেও একমাত্র বিএনপি দেশ ও জনগনের কল্যাণে কাজ করে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকারের ৫ বছরের মেয়াদে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১৫০ শয্যায় উন্নিত করা হবে। একইসাথে এসব স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিসের ব্যবস্থা করা হবে। নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ি বিএনপি সরকার গঠন করেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুপ করেছে। এর ফলে সরকারের দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও ১৩ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছে ‘
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘১৭ বছর স্বৈরাচার সরকার জনগণের কণ্ঠরোধ করে অধিকার বঞ্চিত করেছিলো। ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণের রায়ে বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে সে অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে। মহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষ বন্যার হাত থেকে রক্ষা পাবেন। এর ফলে নতুন করে ৩৪ হাজার হেক্টর জমি আবাদের আওতায় আসবে। এক লক্ষ মেট্রিক টন ফসল উৎপাদন বাড়বে। ফলে শষ্য মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আসবে।
পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়কমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, গৃহায়ন ও গণপুর্তমন্ত্রী জকারিয়া তাহের সুমন বক্তব্য রাখেন। এর আগে দিনব্যাপি সফরের শুরুতে ফেনীর পরশুরাম পৌঁছে বৃষ্টি উপেক্ষা করে বহু প্রতিক্ষার মুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য দুপুর ২টার পর ঢাকা থেকে সড়কপথে ফেনীর পরশুরাম পৌছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরশুরামের অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী যান ফুলগাজী। মধ্যান্ন বিরতির পর যোগ দেন সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠের অনুষ্ঠান। সেখান থেকে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম ও পুরোহিতদের ভাতা প্রদান এবং ২৪৯ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার প্যানেল স্থাপনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।

